কেন্দ্রের সিদ্ধান্তই বহাল রইল, জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা অবলুপ্তি বৈধ, রায় সুপ্রিম কোর্টের

আজ, সোমবার জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রদানকারী ৩৭০ ধারা অবলুপ্তি সংক্রান্ত মামলার রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। এদিন এই মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি এস কে কৌলের বেঞ্চে। জম্মু ও কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বাতিলের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে একাধিক মামলা দায়ের হয় সুপ্রিম কোর্টে। সেই মামলাগুলিকেই একত্রিত করে এদিন রায় দিল শীর্ষ আদালত।

এদিন সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের রায়ে জানানো হয়, কেন্দ্রের ৩৭০ ধারা অবলুপ্তির সিদ্ধান্ত বৈধ। ২০১৯ সালে রাষ্ট্রপতি জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের নির্দেশও বৈধ বলে জানায় শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের কথায়, জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ। যুদ্ধ পরিস্থিতি মাথায় রেখেই জম্মু-কাশ্মীরের ৩৭০ অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এই ৩৭০ অনুচ্ছেদ সাময়িক ব্যবস্থা ছিল মাত্র। তাই এই ধারা বাতিল করার ক্ষমতা রয়েছে রাষ্ট্রপতির।

প্রধান বিচারপতির এই রায়ের পক্ষে সম্মতি দেন বিচারপতি গাভাই ও বিচারপতি সূর্যকান্ত। ভিন্ন তবে সমান্তরাল রায় দেন বিচারপতি সঞ্জয় কিষাণ কৌলও। দুইপক্ষেই রায় দিয়েছেন বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। সুপ্রিম কোর্ট এও জানিয়েছে যে জম্মু-কাশ্মীরকে যত দ্রুত সম্ভব রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার নির্বাচন করাতে হবে। প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন, “আমরা মনে করি, ভারতে অন্তর্ভূক্তির পর জম্মু-কাশ্মীরের কোনও অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব রাখে না”।

এদিন সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে সরকার পক্ষের আইনজীবীরা জানান, জম্মু ও কাশ্মীরকে পুরোপুরিভাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এই পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ভোট হবে সে রাজ্যে। রাজ্যের মর্যাদা ফেরানো হবে।

অন্যদিকে, মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবীরা কপিল সিবল, গোপাল সুব্রহ্মণ্যম জানান, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে হাতিয়ার করে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে জারি করা কয়েকটি প্রশাসনিক নির্দেশের মাধ্যমে একটি পূর্ণ মর্যাদার অঙ্গরাজ্যকে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করে দিয়েছে কেন্দ্র। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর আঘাত হেনেছে বলে দাবী আইনজীবীদের। তবে ধোপে টেকে নি মামলাকারীদের আবেদন। বহাল রইল কেন্দ্রের সিদ্ধান্তই।  

RELATED Articles