আর এরপর থেকেই পুলিশ লক আপে শুরু করেছেন কান্নাকাটি। কিছুই না কি খাচ্ছেন না তিনি। সাগর রানা ধনকড়ের হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন সুশীল কুমার। তাঁকে ছ’দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধানী দিল্লির মডেল টাউন পুলিশ স্টেশনে আপাতত বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন ৩৭ বছরের অলিম্পিক পদকজয়ী সুশীল কুমার।
পুলিশ সূত্রে খবর ধরা পড়ার পর থেকেই কান্নাকাটি করছেন সুশীল। সোমবার গোটা রাত ধরেই কেঁদে গিয়েছেন। কিছুই নাকি দাঁতে কাটেননি।
সাগর রানা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তাঁকে জেরা করা হলে সুশীল জানিয়েছেন, ছত্রসাল স্টেডিয়ামের বাইরে গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে ঝামেলা হলে ২৩ বছরের তরুণ কুস্তিগীর সাগরকে তিনি শুধু ভয় দেখাতেই চেয়েছিলেন। মেরে ফেলতে চাননি। কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত ৪ই মে সুশীলের মারের জেরেই মৃত্যু হয় ওই তরুণ কুস্তিগীরের। সুশীলের গ্রেফতারির জন্য আওয়াজ তুলেছিলেন খোদ সুশীলের কোচও।
এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ছত্রসাল স্টেডিয়ামে জুনিয়র জাতীয় চ্যাম্পিয়ন সাগর রানা ধনকড় হত্যা মামালায় মূল অভিযুক্ত সুশীল কুমারই। সাগর ছাড়াও তাঁর আরও দুই বন্ধু সোনু ও অমিত কুমারকেও মারাধর করার অভিযোগ উঠেছে সুশীলের বিরুদ্ধে। প্রসঙ্গত সুশীলের হাতের মারেই মৃত্যু হয় সাগরের তা প্রমাণিত। এর পর আত্মগোপন করেন ৩৭ বছরের কুস্তিগীর। তাঁকে হন্যে হয়ে খোঁজার পর শেষ পর্যন্ত শনিবার গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। সঙ্গে তাঁর বন্ধু অজয় কুমারকেও গ্রেফতার করা হয়। এর পরে তাঁদের কোর্টে তোলা হলে ছ’দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ‘হত্যাকাণ্ডের দিন ঠিক কী কী ঘটনা ঘটেছিল তাই জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে সুশীল কুমারকে। এবং সেই সঙ্গেই জানতে চাওয়া হচ্ছে, এই ঘটনার পর তিনি কোথায় কোথায় আত্মগোপন করেছিলেন, এবং কারা তাঁকে সেই সময় সাহায্য করেছে,’
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই মামলার সঙ্গে জড়িত দুটি ডাবল-ব্যারেল বন্দুক, সাতটি টাটকা কার্তুজ, দুটি কাঠের মোটা লাঠি এবং পাঁচটি গাড়ি তারা বাজেয়াপ্ত করেছে। এই ঘটনার কোপ পড়েছে সুশীলের চাকরি জীবনেও। রেলের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে তাঁকে।





