ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে চাপে রাজ্য সরকার! নোটিশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট

২১শের বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ছিল হাইভোল্টেজ। তৃণমূল-বজেপি কাঁটায় কাঁটায় টক্কর হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছিল। ভোটের আগে থেকে লাগাতার বাংলার মসনদে জেতার হুঁশিয়ারি দিচ্ছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। অমিত শাহ্ হোক বা নরেন্দ্র মোদী মমতাকে উৎখাত করে তৃণমূল বিদায়ের ডাক দিয়েছিলেন সবাই। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল হতাশ করে বিজেপিকে। ২০০ পারের স্বপ্ন দেখা বিজেপি দোদুল্যমান তৃণমূলের কাছে কার্যত অসহায়ের মতো পরাজয় স্বীকার করে।
আর এই বিপুল ভোটে জয়ের পর শুরু হয় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের দাপট। ২০০র ওপর সিটে জিতে ব্যাপক হিংসা চালায় তারা। ঘর ছাড়তে বাধ্য হয় শয়ে শয়ে বিজেপি সমর্থক। মৃত্যু হয় বেশ কয়েকজনের। আক্রান্ত হয় বামেরাও।এই হিংসাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। ‌বাংলার ভোট-পরবর্তী হিংসা পরিস্থিতিকে দেখে বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দাবি তোলেন অনেকেই। রাজ্য পরিদর্শনে আসে কেন্দ্রের বিশেষ পর্যবেক্ষক দল। বিজেপি কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা।

আরও পড়ুন-আসছে শক্তিশালী “যশ”, ঝড়ের দিন বিভিন্ন জায়গায় বন্ধ থাকতে পারে বিদ্যুৎ পরিষেবা! জানাল CESC, চালু হেল্পলাইন নম্বর

আর এবার সেই ভোট-পরবর্তী হিংসাকে নিয়ে রাজ্য সরকারের উপর চাপ বাড়ালো সুপ্রিম কোর্ট। পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নোটিশ জারি করল উচ্চ আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ৭ই জুন থেকে যে সপ্তাহ শুরু হচ্ছে, সেই সপ্তাহের মধ্যেেই রাজ্য সরকারকে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া দিতে হবে।

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসা নিয়ে সুপ্রিমকোর্টে দাখিল হয় পিটিশন। সেখানেই দাবি করা হয়, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে তৃণমূলী হিংসার জেরে বহু মানুষকে বাড়িছাড়া হতে হয়েছে। ১৮ জনের বেশি রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। চলেছে লুঠ, হিংসা। বিভিন্ন জায়গায় ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে মহিলাদের। অভিযোগ করা হয়, ‘রাজ্য সরকারের মদতপুষ্ট’ দুষ্কৃতীদের সঙ্গে পুলিশ করা হয়েছে।

আর আজ অর্থাত মঙ্গলবার সেই মামলার‌ই শুনানিতে পিটিশনাররা জানান, বাংলার পরিস্থিতির পর্যালোচনা করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং জাতীয় মহিলা কমিশন। আর তার ভিত্তিতেই দুই কমিশনকে মামলায় যুক্ত করার নির্দেশ দেয় বিচারপতি বিনীত সরণ এবং বিচারপতি বিআর গাভাইয়ের অবসরকালীন বেঞ্চ।

একইসঙ্গে রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে নির্দেশ দেওয়া হয় যেন‌ও জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই এই ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া পাঠায় বঙ্গ সরকার।

RELATED Articles