দিল্লির নিজামুদ্দিন মসজিদে উপস্হিত ছিলেন বঙ্গের বাসিন্দারাও, খোঁজ চালিয়ে পাঠানো হবে কোয়ারেন্টাইনে

গত ১লা মার্চ থেকে ১৫ই মার্চ পর্যন্ত দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার একটি মসজিদে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ২০০ জনের জমায়েত ঘটেছিল। ওই অনুষ্ঠানে সামিল হতে এসেছিলেন অনেক বিদেশিও, যার মধ্যে ছিলেন মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব ও কিরঘিজস্তানের প্রতিনিধিরা। এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষদের মধ্যে কোরোনা সংক্রামিত মানুষরাও উপস্থিত ছিলেন। তাই এই অনুষ্ঠান থেকে ফিরে করোনা আক্রান্ত হয়ে ৭ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে তেলেঙ্গানায়। এবার জানা গেল যে ওই অনুষ্ঠানে বাংলা থেকেও অনেকে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির মসজিদে।

মঙ্গলবার রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রত্যেককে চিহ্নিত করে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় তাঁদের প্রত্যেকের কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব। তবে কতজনকে এ পর্যন্ত চিহ্নিত করা গেছে সেই সংখ্যা অবশ্য প্রকাশ করা হয়নি রাজ্য সরকারের তরফে।

এর আগে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পরে করোনা আক্রান্ত হয়ে তামিলনাড়ু ও জম্মু-কাশ্মীরে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। তারপর তেলেঙ্গানার ৭ জন মারা যান। এই মসজিদে যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে থেকে পরবর্তীতে ১১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। এই ১১ জন ইন্দোনেশিয়া থেকে এসেছিলেন। তাঁদের পরীক্ষা হয় হায়দ্রাবাদে।

ওই ১১জনের সংস্পর্শে যাঁরা ছিলেন তাঁদের সকলকেই দিল্লির ওই ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ। মানুষের গতিবিধি খতিয়ে দেখতে ড্রোনও ব্যবহার করা হচ্ছে ইতিমধ্যে। এখনও ওই মসজিদের ছ’তলা ডরমিটরিতে ২০০০ জন রয়েছেন বলে খবর। এদের মধ্যে আবার ২৮০ জন বিদেশি নাগরিক।

কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রবিবার ৩৪ জনের শরীরে কোভিড-১৯ এর উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। সোমবার আরও ১৫০ জনের শরীরে উপসর্গ দেখা দেয়। বিদেশ থেকে আসা নাগরিকরা কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন এবং কার কার সংস্পর্শে এসেছিলেন তারও খোঁজ চলছে।

অন্ধ্রপ্রদেশের এক করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংক্রমন-এর ইতিহাস ঘেঁটে ওই অনুষ্ঠানের সূত্র পাওয়া গেছে। দিল্লি, শ্রীনগরেও ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন ব্যক্তির খোঁজ চলছে। অনুষ্ঠানের পর যে যার রাজ্যে চলে যায় এবং দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েন। সেই তালিকা ঘেটেই এবার বাংলার কিছু মানুষের উপস্হিতির কথা সামনে এলো। এই খবরে খানিকটা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

RELATED Articles

Leave a Comment