দেশ জুড়ে যখন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—দেশের সুরক্ষায় আমরা কতটা সজাগ? যুদ্ধ না হোক, কিন্তু প্রতিরক্ষার দিক দিয়ে শক্ত হাতে দেশকে ধরতে প্রস্তুত কিনা আমাদের সেনাবাহিনী, সেটাই ভাবাচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সীমান্তে উত্তেজনা, রাজনীতির চাপ—এসবের মাঝে দেশবাসী আশার চোখে তাকিয়ে থাকে বাহিনীর দিকে।
সম্প্রতি কাশ্মীর উপত্যকায় জঙ্গিহানার পর থেকেই উত্তেজনার পারদ চড়ছে। কেন্দ্রীয় সরকার একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সন্ত্রাসবাদকে কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে জবাব দিতে প্রস্তুত তিন বাহিনী—সেনা, বায়ু ও নৌ। প্রতিরক্ষামন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী—সকলেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, দেশের নিরাপত্তা নিয়ে কোনওরকম আপস করা হবে না। তারই প্রতিফলন দেখা গেল এবার আরব সাগরের বুকে।
ঘটনাটি শুরু হয় পাকিস্তানের এক মহড়াকে ঘিরে। সে দেশের নৌসেনা আরব সাগরের জলসীমায় মহড়া চালাতে শুরু করলে, তার জবাবে সতর্কভাবে এগোয় ভারতীয় নৌসেনা। জানা যায়, আইএনএস সুরাত থেকে একটি শক্তিশালী মিসাইল উৎক্ষেপণ করা হয় এই মহড়ার অংশ হিসেবে। তবে একে নিছক মহড়া ভাবার সুযোগ নেই—এই মিসাইল ফায়ার ছিল কৌশলগত বার্তা। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলসীমায় অনুপ্রবেশ বা উত্তেজনা সৃষ্টির যে কোনও চেষ্টার বিরুদ্ধেই এটি ছিল এক রকম প্রতিরোধ।
প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্তা গ্রুপ ক্যাপ্টেন আর কে দাস জানিয়েছেন, “এটা শুধুই মহড়া নয়, এটা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি। আমাদের মাটিতে ঢুকলে এবার ফল ভুগতে হবে। ভারতের নৌসেনা ও বায়ুসেনা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আইএনএস সুরাত থেকে উৎক্ষেপণ তারই প্রমাণ। পাকিস্তানকে বোঝাতে হবে—আরও এক কদম এগোলে জবাব আসবে।” শুধু তাই নয়, নর্দান কমান্ডে রাফাল ও সুখোই যুদ্ধবিমানকেও তৎপর অবস্থায় রাখা হয়েছে বলেই সূত্রের খবর।
আর পড়ুনঃ Suvendu Adhikari : কাশ্মীরে বাঙালি যুবকের মৃত্যু*র বদলা চাই! পাকিস্তানের পতাকা জ্বালিয়ে হুঙ্কার শুভেন্দুর!
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হল—ভারত শুধু মুখে নয়, বাস্তবেও প্রস্তুত। দেশের সেনাবাহিনী যে কোনও পরিস্থিতিতে সক্রিয় থাকতে জানে, এবং দেশের প্রতিরক্ষায় কোনও খামতি রাখে না। এমন মহড়া সাধারণ নাগরিকদের মনে যেমন নিরাপত্তার অনুভূতি জাগায়, তেমনই শত্রুপক্ষের কাছে স্পষ্ট বার্তা পাঠায়—ভারতের দিকে চোখ তুলে তাকাতে গেলে চড়া মূল্য চোকাতে হবে।





