দেশের সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়গুলি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় নিশীথ প্রামাণিকের একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি বিশেষ করে ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। শুভেন্দুর দাবি, দেশে সীমান্তে নিয়মিতভাবে অনুপ্রবেশকারীদের পুশব্যাক বা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, যা কিছু রাজ্যে অত্যন্ত কার্যকর হলেও বাংলায় তা অসম্পূর্ণ।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, “ভারত সরকার এবং বিএসএফ ইতিমধ্যেই প্রায় ৪ লক্ষ বাংলাদেশিকে পুশব্যাক করেছে। বিজিবি বা বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদেরও ধন্যবাদ জানাই, কারণ তারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত নিতে বাধ্য হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভিসা থাকলে কাউকে ফেরত দেওয়া হয়নি। তবে কেন্দ্রের নির্দেশিকায় তালিকা দেওয়ার পরই বিজিবি এই অনুপ্রবেশকারীদের গ্রহণ করেছে।
বিরোধী নেতা আরও বলেন, “এই পুশব্যাকগুলি মূলত গুজরাট, হরিয়ানা এবং দক্ষিণের কয়েকটি রাজ্য থেকে হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতার ও পুশব্যাক হয়েছে মহারাষ্ট্র থেকে। কিন্তু বাংলার সরকার এই কাজে যুক্ত নয়। তারা ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে কেন্দ্রকে সহযোগিতা করছে না।” শুভেন্দুর এই মন্তব্যের মাধ্যমে বাংলার সরকারের সীমান্ত সংক্রান্ত অসহযোগিতার অভিযোগ সামনে এসেছে।
শুভেন্দু দাবি করেন, ২০১৬ সাল থেকে রাজ্যের কাছে সীমান্তে কাঁটা তার বসানোর জন্য জমি চাওয়া হয়েছে। “বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪ হাজার কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার বাংলায় রয়েছে। এর মধ্যে ৫৪০ কিলোমিটার অংশের জন্য কেন্দ্র জমি চেয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকার তা দিচ্ছে না। ফলে গত এক দশকে বাংলায় অবৈধভাবে অনেকে প্রবেশ করেছে।”
আরও পড়ুনঃ Narendra Modi : “আমার জন্য কোনও ব্যতিক্রম নয়”—নিজেকে ছাড় দিলেন না মোদী, তীব্র বিতর্ক ১৩০তম সংশোধনী ঘিরে!
শুভেন্দুর এই তথ্য প্রকাশ রাজনৈতিক মহলে সরগরম পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য বাংলার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি মনে করান, দেশীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলো রাজনৈতিক স্বার্থের বাইরে নিয়ে আসা জরুরি, না হলে সীমান্তবর্তী এলাকায় অনিয়মের প্রভাব আরও বাড়বে।





