পাক অধিকৃত অঞ্চলে জঙ্গি ঘাঁটির বিরুদ্ধে ভারতের কড়া পদক্ষেপ—’অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) , সীমান্তবর্তী এলাকায় সুরক্ষার ছবিটাই বদলে দিয়েছে। ৭ই মে এই অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারতের বিভিন্ন সীমান্তে জারি হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। পাকিস্তানের ভূখণ্ডে সন্ত্রাসবাদীদের গোপন আস্তানায় নিশানা বসানো হয়েছে, যার জেরে লাইন অফ কন্ট্রোল জুড়ে উত্তেজনা চরমে। সেনা ও গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, শত্রুপক্ষের পাল্টা চেষ্টা রুখতে দেশে একাধিক জায়গায় নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন সাবধানতামূলক পদক্ষেপ।
আজ জম্মুর আকাশে অশান্তির ছায়া
অপারেশনের রেশ এবার সরাসরি এসে পড়েছে জম্মু অঞ্চলে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আচমকা অন্ধকারে ডুবে যায় গোটা এলাকা। বন্ধ হয়ে যায় সমস্ত বিদ্যুৎ সংযোগ, বন্ধ হয়ে যায় আলো। আকাশজুড়ে তখন নিস্তব্ধতা। সেই মুহূর্তেই ভেসে আসে সাইরেনের আওয়াজ, একের পর এক সতর্কবার্তা। চারপাশে থমথমে পরিবেশ, যেন যুদ্ধের প্রাক মুহূর্তে নিঃশব্দ প্রতীক্ষার ইঙ্গিত।
জম্মুর আকাশে অজানা আলো, দৃশ্যমান পাকের ড্রোন
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অন্ধকারে ঢেকে থাকা আকাশে একাধিক বস্তুর নড়াচড়া চোখে পড়েছে। কেউ বলছেন সেগুলি ড্রোন, কেউ বা বলছেন অজানা উড়ন্ত বস্তু। কিছুক্ষণের মধ্যেই আকাশে দেখা যায় রহস্যজনক আলো। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী সেই সন্দেহভাজন ড্রোনগুলিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং সফলভাবে সেগুলিকে নামিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করল, সীমান্তের ওপার থেকে যে কোনও সময় আসতে পারে হামলার ছক।
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় সতর্ক প্রশাসন
জম্মুতে এই ধরনের তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। হঠাৎ ব্ল্যাকআউট, আকাশে আলো, সাইরেন, সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের তরফে যদিও জানানো হয়েছে, এটি একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা, তবে এর পিছনে যুদ্ধতুল্য উত্তেজনার ইঙ্গিত অনেকটাই স্পষ্ট। বহু এলাকা জুড়ে সেনা টহলদারি বেড়েছে, এবং বেসামরিক মানুষদের বাড়ির ভিতর থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা ফের চরমে! প্রত্যুত্তরে পাকিস্তান করতে পারে চরম হামলা!
পাঞ্জাবে তৎপর প্রশাসন, ব্ল্যাকআউট গুরদাসপুরেও
জম্মুর ঘটনার পর এবার পাঞ্জাবের গুরদাসপুর জেলাতেও জারি হয়েছে রাতভর ব্ল্যাকআউটের নির্দেশ। সন্ধ্যা ৯টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত জেলাজুড়ে কোনওরকম বাইরের আলো জ্বলবে না—এমনই নির্দেশ জারি করেছেন জেলা শাসক। হাসপাতাল ও জেলখানা বাদে বাকি সব এলাকাকে কড়া নিয়মে ব্ল্যাকআউট মানতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, অপারেশন সিন্দুর শুধু সীমান্তে নয়, দেশজুড়েই নিরাপত্তার মানচিত্রে বদল আনছে—এমনটাই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।





