জ্বালানি সংকট এখন শুধু সাধারণ মানুষের নয়, প্রভাব পড়েছে টলিউডের তারকাদের দৈনন্দিন জীবনেও। রান্নাঘরের গ্যাসের ঘাটতি অনেক পরিবারকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী বহু পদের রান্না এখন অনেক বাড়িতেই কমে এসেছে। অনেকেই ইন্ডাকশন ওভেন বা মাইক্রোওয়েভে ভরসা করছেন, আবার কেউ কেউ কম পদ রান্না করে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছেন। শহরের বেশ কিছু নামী রেস্তরাঁও সাময়িকভাবে ঝাঁপ বন্ধ রেখেছে। ফলে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, এই সংকট শুধু অর্থনীতি নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকেও বদলে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের মতোই উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন টলিউডের পরিচিত মুখরাও।
অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য জানিয়েছেন, একান্নবর্তী পরিবারে থাকার কারণে তাঁদের বাড়িতে সাধারণত অনেক পদ রান্না হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অভ্যাসে বড়সড় পরিবর্তন আনতে হয়েছে। তিনি বলেন, এখন রান্নায় স্পষ্টভাবেই রাশ টানা হয়েছে এবং খাবারের পদ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভাজাভুজি ধরনের রান্না কম করা হচ্ছে, কারণ এতে বেশি গ্যাস খরচ হয়। প্রয়োজনে ইন্ডাকশন ব্যবহার করার কথাও ভাবছেন তিনি। এমনকি পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে কাঠকয়লায় রান্না করার কথাও ভাবতে হতে পারে বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
একই রকম উদ্বেগের কথা শোনালেন অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, বাড়ির দুই জায়গাতেই গ্যাস সিলিন্ডার ফুরিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রথমে টেরই পাননি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে বেশ চিন্তায় পড়েন। বাড়িতে বাচ্চা সহ অনেক সদস্য থাকায় খাবার জোগাড় করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে উত্তেজিত হয়ে লাভ নেই, বরং ঠান্ডা মাথায় সবকিছু সামলাতে হবে। তাই এখন একটি তরকারি এবং ভাত দিয়ে রান্না সারার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুটিং সেটেও এই সংকটের প্রভাব পড়েছে, এমনকি একদিন কাঠকয়লায় রান্না করেই পুরো ইউনিটের খাবার জোগাড় করতে হয়েছে।
অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র জানান, বুকিং করার পরেও গ্যাস না পাওয়ার অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যকে গিয়ে সিলিন্ডার এনে পরিস্থিতি সামলাতে হয়েছে। আপাতত রাইস কুকারে কিছু রান্না করার চেষ্টা চলছে। করোনাকালের অভিজ্ঞতাই এখন কাজে লাগাচ্ছেন তিনি। তাঁর মতে, যাঁদের বাড়িতে একটি মাত্র সিলিন্ডার রয়েছে তাঁদের অবস্থা আরও কঠিন হতে পারে। একান্নবর্তী পরিবারে এই সমস্যা আরও বাড়বে বলেও আশঙ্কা করছেন তিনি। ইতিমধ্যে শহরের একাধিক রেস্তরাঁ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি কতটা জটিল হয়ে উঠেছে তা স্পষ্ট।
আরও পড়ুনঃ দ্বিতীয় বিয়ে বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই, রাজনৈতিক ধাক্কা! বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় নাম বাদ, খড়গপুরের টিকিট পেলেন না হিরণ চট্টোপাধ্যায়! অভিনেতার কোণঠাসা পরিস্থিতিতে, শেষ হাসি হাসলেন কে?
অন্যদিকে অভিনেত্রী স্নেহা চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আপাতত তাঁর বাড়িতে তেমন বড় সমস্যা হয়নি কারণ ডাবল সিলিন্ডার রয়েছে। তবে তিনি এখন ছোটখাটো কাজ যেমন চা বানানো বা জল গরম করার জন্য ইন্ডাকশন ব্যবহার করছেন। সঙ্গীতশিল্পী পৌষালি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গ্যাসের ব্যবহার এখন খুব মেপে করতে হচ্ছে। শহরের ফ্ল্যাটে কাঠকয়লায় রান্না করা প্রায় অসম্ভব হওয়ায় সমস্যাটা আরও বাড়ছে। শুধু রান্নাঘরেই নয়, শুটিং শেষে চা বা খাবার পাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়ছে। তাই সকলেই চাইছেন দ্রুত এই কঠিন সময় কাটিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠুক।





