ভারত–পাকিস্তান সম্পর্ক বরাবরই উত্তেজনাপূর্ণ। সীমান্তে গোলাগুলি, কূটনৈতিক চাপানউতোর—এই সবকিছুর মাঝেই মাঝেমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলের মন্তব্য নতুন করে আলোড়ন তোলে। সম্প্রতি সেই আলোচনার কেন্দ্রে আবারও উঠে এলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
এক বৈঠকে ট্রাম্প দাবি করেন, ভারত ও পাকিস্তানের সংঘর্ষ থামাতে তিনি সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিলেন। তাঁর কথায়, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে আড়াই কোটিরও বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের উপস্থিতিতেই তিনি বলেন, ভয়ঙ্কর যুদ্ধ চলছিল এবং একের পর এক যুদ্ধবিমান ধ্বংস হচ্ছিল।
ট্রাম্পের আরও দাবি, সংঘর্ষের সময় মোট ১১টি জেট ধ্বংস হয়েছিল। এর আগে তিনি সাতটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার কথা বলেছিলেন। পাশাপাশি তিনি জানান, দুই দেশকে তিনি ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, যদি সংঘর্ষ বন্ধ না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে। অর্থনৈতিক চাপের কারণেই শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ থেমেছিল বলে দাবি তাঁর।
পটভূমিতে রয়েছে পহেলগাঁওয়ের বৈসরণে জঙ্গি হামলার পর ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান। সেই ঘটনার জেরেই দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ে। তবে ভারত আগেই স্পষ্ট করেছে, সংঘর্ষ থামাতে তৃতীয় কোনও দেশের ভূমিকা ছিল না। সরকারি সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের তরফ থেকেই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আসে এবং সেই অনুযায়ী পরিস্থিতি শান্ত হয়।
আরও পড়ুনঃ বাজেট অধিবেশন ঘিরে তপ্ত রাজনীতি— রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সরাসরি গুলির হুমকি, কোটা থেকে ধৃত রাজ সিংহ!
এখন প্রশ্ন উঠছে, ১১টি জেট ধ্বংসের দাবি কতটা বাস্তব? দুই দেশের তরফে এমন কোনও সরকারি পরিসংখ্যান সামনে আসেনি যা ট্রাম্পের বক্তব্যকে সমর্থন করে। ফলে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এই মন্তব্য কতটা রাজনৈতিক, আর কতটা তথ্যভিত্তিক—তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। সংঘর্ষের ইতিহাসে নতুন তথ্য সামনে না এলেও, ট্রাম্পের এই বক্তব্য আবারও ভারত–পাক সম্পর্ককে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে।





