অযোধ্যা মসজিদের নতুন বিতর্ক! মসজিদের জন্য দেওয়া জমি নিজেদের বলে দাবী করলেন দুই বোন

অযোধ্যার ধন্নিপুরে তৈরি হচ্ছে মসজিদ। সেই মসজিদ নিয়েই এবার বিতর্ক তুঙ্গে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই অযোধ্যায় মসজিদের জন্য উত্তরপ্রদেশের সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডেকে পাঁচ একর জমি দেয় উত্তরপ্রদেশ সরকার। ইতিমধ্যেই, জমিতে শুরু হয়েছে মসজিদ তৈরি কাজ। কিন্তু এমন সময়ে বিপত্তি। মসজিদের জন্য ধার্য মোট ২৯ একর জমির মধ্যে ওই ৫ একর জমি নিজেদের বলে দাবী করেছেন দুই বোন।

এই মর্মে এলাহাবাদ হাইকোর্টে দ্বারস্থ হয়ে লখনউ বেঞ্চে পিটিশন দাখিল করেছেন এই দুই বোন। তাদের নাম রানী কাপুর পাঞ্জাবী ও রমা কাপুর পাঞ্জাবী। তাদের দাবী, এই ৫ একর জমি নিয়ে একটি মামলা এখনও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। এই মামলার শুনানি হতে পারে আগামী ৮ই ফেব্রুয়ারি।

২০১৯ সালে ৯ই নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতেই রাম মন্দির হবে। এই রায় মেনে গত বছর ৫ই আগস্ট রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরপর সেই রাম মন্দির থেকেই প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ধন্নিপুর গ্রামে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই মসজিদ স্থাপনের কথা হয়। এই কারণে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যোগী সরকার সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডকে ৫ একর জমি দান করেন। গত ২৬শে জানুয়ারি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এর আগে মসজিদের নকশাও প্রকাশিত হয়। কিন্তু এরই মধ্যে এই দুই বোন দাবী করেন যে এই ৫ একর জমির মালিকানা তাদের।

তাঁরা জানান যে দেশভাগের সময় তাদের মা-বাবা পাকিস্তানের পাঞ্জাব থেকে ফৈজাবাদে চলে আসেন। এই জায়গা এই মসজিদের জমির এখানেই পড়ে। এরপর তাদের বাবা জ্ঞান চন্দ্র পাঞ্জাবী ১ হাজার ৫৬০ টাকার বিনিময়ে ৫ বছরের জন্য ধন্নিপুর গ্রামে ২৮ একর জমি লিজে নেন।

এরপর সেই জমি তাদেরই হয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তীকালে রেভিনিউ রেকর্ড থেকে জ্ঞানচন্দ্র পাঞ্জাবীর নাম সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর অযোধ্যার অ্যাডিশনাল কমিশনারের কাছে আবেদন জানালে এই জমি ফের তাদেরই হয়। কিন্তু পরে ফের একই ঘটনা ঘটে। কনসলিডেশন অফিসার এই বিষয়টি সমাধান করার আগেই ওই ২৮ একর জমির থেকে ৫ একর জমি চলে যায় মসজিদের খাতে। এরপরই এই জমি নিয়ে পিটিশন জমা দেন ওই দুই বোন।

RELATED Articles