গত দু’দিন ধরে গোটা দেশ উত্তাল হাথরাস গণধর্ষণ কান্ডে নির্যাতিতা তরুণীর মৃত্যু নিয়ে। গোটা দেশের মানুষ ক্ষিপ্ত উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন এবং পুলিশের অমানবিক আচরণে। যেখানে তারা আজ বিবৃতি দিয়েছে, ওই তরুণীর নাকি ধর্ষণই হয়নি! ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নাকি লেখা হয়েছে শরীরে আঘাত এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এর ফলেই মারা গিয়েছেন নির্যাতিতা তরুণী মনীষা বাল্মিকী।
অন্যদিকে গতকাল রাতে মনীষার দেহ দিল্লির সদর হাসপাতাল থেকে নিয়ে গিয়ে ফাঁকা মাঠে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেয় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। মনীষার পরিবারের কাকুতি-মিনতি সত্বেও তাদের হাতে দেহ দেওয়া হয়নি। আজ হাথরাসের জেলাশাসক নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়ে রীতিমত হুমকি দিয়েছেন যে “গোটা ঘটনাটা চেপে যাও এবং ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে চুপ করে থাকো কারণ প্রেস-মিডিয়া কিছুদিন পর চলে যাবে তোমাদের কিন্তু প্রশাসনের সঙ্গে ঘর করতে হবে!” স্বাভাবিকভাবেই উত্তরপ্রদেশের পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে উঠে গিয়েছে বড়োসড়ো প্রশ্ন চিহ্ন।
এরমধ্যে আজ বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের অন্যতম শীর্ষ নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে যে ব্যবহার করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তা রীতিমতো অমানবিক এবং বর্বরোচিত বলে আখ্যা দিচ্ছে গোটা দেশ। আজ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অন্যান্য নেতা নেত্রীরা যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে ধরে হাথরাসে যাচ্ছিলেন, সেখানে নয়ডার ডিএনডি সেতুতে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তাদেরকে আটকে দেয়, লাঠিচার্জ করে এবং রাহুল গান্ধীর গায়ে ধাক্কা দিয়ে তাকে মাটিতে ফেলে দেয়! পুলিশের লাঠিচার্জে হাত ভাঙ্গা এক মহিলা কংগ্রেস কর্মী এবং রক্ত ঝরতে থাকে বেশ কিছু কংগ্রেস কর্মীদের শরীর থেকে। যেভাবে তাদেরকে রাস্তায় আটকানো হয়েছে তা যখন টিভির পর্দায় ফুটে উঠছে তা দেখে রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েছে দল-মত নির্বিশেষে সকলে। পরে রাহুল গান্ধীকে গ্রেফতার করা হলে ঘটনা সম্পূর্ণ অন্য দিকে মোড় নেয়।
অন্যদিকে রাহুল গান্ধীর উপর উত্তর প্রদেশ পুলিশের এই আক্রমণ ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে দেশের অন্যতম বিরোধী দল কংগ্রেস। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সাফ জানান, আমাদের সঙ্গে যা করছে করুক কিন্তু উত্তরপ্রদেশ পুলিশ মনীষা বাল্মীকির পরিবারের সঙ্গে যা করছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। যে সরকার ছোট থেকে ছোট ঘটনায় শুধু ধর্মের কথা বলে সেই সরকার একজন বাবাকে তার মেয়ের শেষকৃত্য টুকু করতে দিল না?
স্বাভাবিকভাবেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও প্রশাসনের এই বর্বর আচরণে রীতিমতো স্তম্ভিত গোটা দেশবাসী। তারা চাইছেন কেন্দ্র যাতে এই ব্যাপারে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে এবং দোষীদের অবিলম্বে ফাঁসির মতো কঠিন শাস্তি দেওয়া হয়।





