হাথরাসে হাজির কাকলি ঘোষ দস্তিদার, ডেরেক ও’ব্রায়েন, আটকে দিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ

এবার হাথরাস গণধর্ষণ কান্ড নিয়ে আসরে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পর এবার হাথরাসে নির্যাতিতার বাড়ি যেতে গিয়ে বাধা পেল তৃণমূলের প্রতিনিধি দল।

আজ সকালে সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, প্রতিমা মন্ডল, কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং মমতা বালা ঠাকুর হাতরাসে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান। কিন্তু স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন তাদেরকে নির্যাতিতার বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার আগে ব্যারিকেড করে আটকে দেয়।

তখন পুলিশের কাছে বারংবার প্রবেশাধিকার চেয়ে অনুরোধ করতে শুরু করেন ডেরেক ও’ব্রায়েন ও বাকি সাংসদরা। যদিও উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তাদের সেই কথাতে কান দেয়নি এবং স্পষ্ট জানিয়েছে যে এলাকায় এখন ১৪৪ ধারা জারি করা আছে। তাই ওই অঞ্চলে এখন অনুমতি ছাড়া কারও প্রবেশ নিষিদ্ধ। তখন ডেরেক পুলিশের কাছে অনুরোধ জানান যে অন্তত দুই মহিলা সদস্যকে প্রবেশ করতে দেওয়া হোক। তবুও পুলিশ তাদের কথায় কান দেয়নি।

তখন প্রতিমা মণ্ডল বলেন, “এই সরকার (‌উত্তরপ্রদেশ সরকার)‌ এটাই করছে। সকলকে বাধা দিচ্ছে। দলিতদের জন্য এরা কিছু করছে না। আমাদের ভেতরে যেতে দিচ্ছে না।”

তখন ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আমরা এখানে এসেছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময়ই নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ান তাই তিনি এখান থেকে খবর নিয়ে যেতে বলেছেন। একটা মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করে পরিবারের অনুমতি ছাড়াই দেহ দাহ করে দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। যা ঘোরতর অন্যায়।”

উত্তর প্রদেশে পুলিশের অমানবিকতাকে সমর্থন করছেন না কেউই কিন্তু তৃণমূলের সদস্য দলের হঠাৎ তৎপর হওয়াকে কেন্দ্র করে ধীরে জমে উঠেছে বিতর্ক। কারণ অনেকেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন আমাদের রাজ্যের এরকমই বেশকিছু নিশংস ঘটনা যেখানে এই সদস্য দলের প্রতিনিধিরাই কিন্তু অনেক অশালীন মন্তব্য করেছিলেন নির্যাতিতাদের উদ্দেশ্যে।

পার্কস্ট্রিট গণধর্ষণকাণ্ডে নির্যাতিতার উদ্দেশ্যে অশালীন মন্তব্য ছুঁড়ে দিয়েছিলেন ডক্টর কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি বলেছিলেন, “এটা ধর্ষণ নয়, খদ্দেরদের সঙ্গে কিছু সমস্যা হয়েছে হয়তো!” সেই সময় তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে প্রবল বিতর্ক হয়েছিল। তিনি নিজে একজন উচ্চশিক্ষিত পেশায় চিকিৎসক এবং সবথেকে বড় কথা তিনি নিজে একজন মহিলা হয়ে কী করে এই কথা বলতে পারেন তা নিয়ে সব মহলেই উঠেছিল প্রশ্ন। সেখানে আজ যখন তিনি হাতরাসে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান এবং বলেন যে, “এটা ঘোরতর অন্যায় হয়েছে।” তখন এটাকে আয়রনি ছাড়া আর কিছু বলা যায় না, বলছে ওয়াকিবহাল মহল।

এছাড়াও আমাদের রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার থাকাকালীনই পার্কস্ট্রিট, গেদে, গাইঘাটা, কামদুনির মত ভয়াবহ ধর্ষণ কাণ্ড ঘটেছে। সেই সময় কিন্তু তৃণমূলের এই সদস্যদের কোথাও দেখা যায়নি। ফলে অনেকেই তৃণমূলের এই ভোলবদলে রাজনীতির ছায়াই খুঁজে পাচ্ছেন যেখানে সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ছাড়ছে না তৃণমূল কংগ্রেস।

RELATED Articles

Leave a Comment