আর জি কর কাণ্ডের (RG kar incident) ঘটনায় রাজ্য থেকে দেশের সকলেই রীতিমতো ফুঁসছেন। দোষীর ন্যায় বিচারের দাবিতে প্রত্যেকটা মুহূর্তে জমায়েত মিছিল করে পথে নামছেন মানুষ। এইবার মেয়েদের ওপর হওয়া এরকম নির্যাতনের প্রতিবাদে মুখ খুললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। রবিবার মহারাষ্ট্রের জলগাঁওতে একটি প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি আরজিকর কাণ্ডের নাম না করেই মেয়েদের বিরুদ্ধে হওয়া নির্যাতনের প্রতিবাদ করেন।
কলকাতার আর জি কর কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় তরুণী চিকিৎসক পড়ুয়ার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়েছে দেশবাসীকে। রাজ্য থেকে দেশ সকলেই নানা জায়গা থেকে নির্যাতিতার হয়ে ন্যায় বিচার চেয়ে প্রতিবাদে সামিল হচ্ছেন। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী মমতা শঙ্করের মতো তারকারা মুখ খুলছেন নির্যাতিতার হয়ে ন্যায় বিচার চেয়ে, সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানালেন মেয়েদের ওপর কোনরকম অন্যায় অত্যাচার তিনি সহ্য করবেন না- যা নিঃসন্দেহে এক বড় রকমের বার্তা দিল।
মহারাষ্ট্রের জলগাঁওতে ‘লাখপতি দিদি’ প্রকল্পের একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। সেখান থেকেই তিনি মহিলাদের বিরুদ্ধে হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করেন। কড়া ভাষায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেয়েদের বিরুদ্ধে যারা অন্যায় করেন তাদের শাস্তি পাওয়া উচিত। একই সাথে মেয়েদের ওপর হওয়া কোন অন্যায় তিনি যে সহ্য করবেন না সেটাও কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন তিনি। নরেন্দ্র মোদী এই প্রসঙ্গে বলেন, “মহিলাদের বিরুদ্ধে কোনও পাপ কাজ সহ্য করব না। অপরাধীদের কঠিন সাজা নিশ্চিত করব। কাউকে রেয়াত করা হবে না। এই ধরণের অপরাধের কোনও ক্ষমা হয় না।”
মোদীজি আরও বলেন, “মহিলাদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিটি রাজ্যের সরকারকে আবার বলছি, কোনওভাবেই যাতে মহিলাদের উপর হওয়া অন্যায়-অবিচার ক্ষমা না করা হয়। কালপ্রিট যেই হোক না কেন, রেয়াত করা হবে না কাউকেই। অপরাধে সাহায্যকারীদেরও রেয়াত করা হবে না। হাসপাতাল হোক, স্কুল কিংবা অফিস অথবা পুলিশি ব্যবস্থা, কোথাও একফোঁটাও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। তেমনটা হলে দোষীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
একইসাথে তিনি বলেন, “আগে অনেক অভিযোগ উঠত, সঠিক সময় মহিলাদের বিরুদ্ধে অন্যায়-অপরাধের FIR দায়ের হতো না। শুনানি হতো না, মামলার দিন পিছিয়ে যেত। ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় সেই সমস্ত বিষয়গুলি সংশোধন করা হয়েছে। মহিলা এবং শিশুদের উপর হওয়া অত্যাচার নিয়ে একটি গোটা চ্যাপ্টার রয়েছে এই আইনে। পুলিশ স্টেশন পর্যন্ত যেতে না পারলে অনলাইনেই e-FIR দায়ের করার সুযোগ রয়েছে মহিলাদের জন্য।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই সিভিক ভলেন্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশ। আর জি কর কাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের হাত থেকে তদন্ত ভার গ্রহণ করেছে সিবিআই। অন্যদিকে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকেও সিবিআই একাধিক বার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অপরাধীর ফাঁসির দাবিতে পথে নেমেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও তিনি চিঠি লিখে ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানান।





