বছর গড়ালেই লোকসভা নির্বাচন। এই মুহূর্তে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির প্রস্তুতি তুঙ্গে। কেউ কাউকে একচুলও জমি ছেড়ে দিতে রাজি নয়। বিজেপি থেকে শুরু করে কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম সব দলের মধ্যে চলছে এখন এগিয়ে যাওয়ার লড়াই। কোনদিকে বইবে ভোটের হাওয়া? এখন সেটাই প্রশ্ন।
বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে নানান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি জোট বেঁধে তৈরি হয়েছে ইন্ডিয়া জোট। যদিও এখনও আসন ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে কিছু জানানো হয়নি। এদিকে, বাংলায় এখনও বিজেপি বিরোধী চেহারা কেমন হবে, তা এখনও স্থির হয়নি। তৃণমূল নাকি সিপিএম, কার সঙ্গে জোট বাঁধবে কংগ্রেস, তাও এখনও ঠিক হয়নি। তবে এমন আবহে এবার এক জনমত সমীক্ষা চালাল সি ভোটার।
কী উঠে এল সেই সমীক্ষায়?
সি ভোটারের সমীক্ষা অনুযায়ী, বাংলায় একা লড়ে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ১৬-১৮টি আসন পেতে পারে বিজেপি। অন্যদিকে, তৃণমূল পেতে পারে ২৩-২৫টি আসন। কংগ্রেস ও সিপিএমের কপালে জুটতে পারে ০-২টি আসন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। এবারের জনমত সমীক্ষা যদি সত্যি হয়, তাহলে এবারও তেমনই আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে গেরুয়া শিবিরের।
সি ভোটারের সমীক্ষা অনুযায়ী, বিহারে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ পেতে পারে ১৬-১৮টি আসন। ২১-২৩টি আসন পেতে পারে জেডিইউ, আরজেডি, কংগ্রেস ও বামপন্থিদের জোট।
সি ভোটারের সমীক্ষা বলছে, মহারাষ্ট্রে ১৯-২১টি আসন পেতে পারে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ, ২৬-২৮টি আসন জেতে পারে কংগ্রেস শিবসেনা গোষ্ঠী ও শরদ পাওয়ার নেতৃত্বাধীন এমভিএ জোটের কাছে। আর অন্যান্যরা পেতে পারে ০-২টি আসন।
এই সমীক্ষা অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের ৮০টি লোকসভা আসনের মধ্যে বিজেপিই পেতে পারে ৭৩-৭৫টি আসন। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টি যদি কংগ্রেসকে জোটে নেয়ও, তাহলে তারা পেতে পারে ৪-৬টি আসন। আর মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি পেতে পারে ০-২টি আসন।
আবার সি ভোটারের সমীক্ষা অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশের ২৯টি আসনের মধ্যে বিজেপি একাই পেতে পারে ২৭-২৯টি আসন। ছত্তিশগড়ের ১১টি লোকসভা আসনের মধ্যে বিজেপি একাই ৯-১১টি আসনে জিততে পারে। সমীক্ষা বলছে, রাজস্থানে ২৫টি আসনের মধ্যে গেরুয়া শিবির একাই জিততে পারে ২৩-২৫টি আসনে। কংগ্রেস পেতে পারে ০-২টি আসন।
সমীক্ষা বলছে, কর্ণাটকে ২৮টি লোকসভা আসনের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট পেতে পারে ২২-২৪টি আসন। আর কংগ্রেসের ঝুলিতে যেতে পারে ৪-৬টি আসন।
এখনও পর্যন্ত যা ট্রেন্ড, তাতে দেশের বেশিরভাগ বড় বড় রাজ্যেই গেরুয়া শিবিরই এগিয়ে রয়েছে। যদিও এটা এখনও পর্যন্ত জনমত সমীক্ষা। এমন একাধিকবার হয়েছে যে জনমত সমীক্ষা ও ভোটের ফলাফল একেবারে আলাদাই হয়েছে। শেষমেশ কী ফলাফল হয়, ফের কী দেশে আরও একবার মোদী ম্যাজিক অব্যাহত থাকবে, নাকি দিল্লির মসনদে বসবে অন্য সরকার, তা জানতে কিছুটা সময় তো আরও অপেক্ষা করতেই হবে।





