আজ ধনতেরাস। হিন্দু পঞ্জিকা মতে, কার্ত্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে পালন করা হয় ধনতেরাস। জানা যায়, এই তিথিতে ধন্বন্তরি দেব অবতরিত হয়েছিলেন। এদিন দেবী ধন্বন্তরির পুজো করার রীতি রয়েছে। এদিন সকলেই বিষ্ণুর অবতার ধন্বন্তরির পুজো করেন।
শাস্ত্র অনুযায়ী, এদিনই সমুদ্র মন্থনের ফলে অবতরিত হন ধন্বন্তরি। ধন্বন্তরির পাশাপাশি এ দিন কুবের, লক্ষ্মী, গণেশ ও যমের পুজো করা হয়। পারিবারিক সুখ-সমৃদ্ধি লাভের জন্য ধন্বন্তরিকে প্রসন্ন করে তাঁর পুজো করা হয়ে থাকে। এই বছর ধনতেরাসের শুভক্ষণ শুরু হল সন্ধ্যা ৫টা ৩৭ মিনিট থেকে রাত ৮টা ১১ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। আবার বৃষ কাল থাকবে সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিট থেকে রাত ৮টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত। ধনতেরাসে পুজোর শুভক্ষণ সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিট থেকে রাত ৮টা ১১ মিনিট পর্যন্ত থাকছে। বলা হয় ধন্বন্তরীকে হলুদ ও কুবেরকে সাদা মিষ্টি অর্পণ করলে সুখ -সমৃদ্ধি ফিরে আসে।
এই শুভ দিন উপলক্ষ্যে অনেকেই বাড়িতে নানান ধরণের মিষ্টি বানিয়ে থাকেন। দেখে নেওয়া যাক ধনতেরাসের দিন কোন কোন মিষ্টি বানানো শুভ।
পঞ্চামৃত
হিন্দু ধর্মে পঞ্চামৃত হল একটি পবিত্র জিনিস। দুধ , দই , ঘি , মধু , চিনি -এই পাঁচ রকমের জিনিস দিয়ে এই পঞ্চামৃত তৈরি করা হয়। এটা লক্ষ্মী পূজার সময় ভোগ হিসেবে দেওয়া হয়। ধনতেরাসের পুজোর সময়এই পঞ্চামৃত তৈরি করা আবশ্যক। পঞ্চামৃত তৈরিতে ব্যবহৃত পাঁচটি উপাদানই তাদের বিশেষ তাৎপর্য আছে। দুধ বিশুদ্ধতা এবং ধার্মিকতার প্রতিনিধিত্ব করে। ঘি হল শক্তি এবং বিজয়ের জন্য। মধু ঐক্যের প্রতিক মনে করা হয়। চিনি মিষ্টতা সুখ সম্পর্কে কথা বলে। আর দই সমৃদ্ধি নির্দেশ করে।
হালুয়া
এদিন উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের নানান অঞ্চলেম হালুয়া বানানোর রীতি রয়েছে। এই হালুয়া বানাতে লাগে গমের আটা, ঘি, ও চিনি। অনেকে এই বিশেষ হালুয়া তৈরির জন্য দুধ ব্যবহার করেন। বলা হয়, হালুয়া দীর্ঘায়ুর প্রতীক। এই কারণে ধনতেরাসের দিন এই মিষ্টি বানানো হয়।
লাড্ডু
ধনতেরাসের পুজোতে লাড্ডু অত্যন্তন শুভ বলে মনে করা হয়। গণেশের প্রিয় মিষ্টি বুন্দির লাড্ডু। এই কারণে ভগ হিসেবে নিবেদন করা হয় এই বুন্দির লাড্ডু। এই সময় যেহেতু লক্ষ্মী-গণেশ পুজো করা হয়, তাই লাড্ডুকে শুভ বলে মনে করা হয়।
সাদা বাতাসা
লক্ষ্মীপুজোয় সাদা বাতাসা নিবেদনের রীতি রয়েছে। দীপাবলিতে উত্তির ভারতে এই বাতাসা তৈরি করা হয়। খিল দিয়ে তৈরি এই সাদা বাতাসা খুবই শুভ বলে মনে করা হয়।
নৈবেদ্য
মহারাষ্ট্রে এইদিন মা লক্ষ্মীকে নৈবেদ্য দেওয়া হয়। গুঁড়ের সঙ্গে শুকনো ধনে বীজ মিশিয়ে এই নৈবেদ্য তৈরি করা হয়। প্রচলিত রয়েছে, এই নৈবেদ্য নিবেদন করলে সৌভাগ্য ফেরে। সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি বজায় রাখতে এই নৈবেদ্য অবশ্যই তৈরি করুন।





