গত শুক্রবার সকাল ন’টায় প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে নিজের কিছু বক্তব্য রাখেন। যেখানে তিনি বলেন ৫ই এপ্রিল রবিবার রাত ন’টায় সমস্ত দেশবাসী যেন তাদের বাড়ির আলো নিভিয়ে দিয়ে শুধু প্রদীপ, মোমবাতি বা মোবাইলের ফ্লাশ লাইট জ্বালিয়ে ৯ মিনিটের জন্য নিজের বারান্দায় বা ব্যালকনিতে দাঁড়ান।
এই বক্তব্যের পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে, অনেকেই বলছেন আজকালকার যুগে এসব কী হচ্ছে? এই মারণ ভাইরাস কি আলো জ্বালালেই চলে যাবে? তার তো কোনো প্রতিষেধকও আবিষ্কার হয় নি। কিন্তু অনেকে প্রধানমন্ত্রীর এই কাজের মধ্যে আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া পাচ্ছেন।
ভারতবর্ষের শিক্ষা, সংস্কৃতি, রীতিনীতি, উৎসব, সভ্যতা সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে আধ্যাত্মিকতা।আধ্যাত্মিকতা কিন্তু কোন ধর্ম নয়। এ হলো মনের শক্তিকে জানবার এবং বিকাশ করার একটা উপায় মাত্র। বিজ্ঞান ভগবানে বিশ্বাসী নয় সে শুধু জানে শক্তির অস্তিত্ব। এই মহাজগতে যা কিছু আছে, একদম এককোষীয় প্রাণী থেকে বহুকোষী জীব। আবার সেই একদম ছোট্ট পরমাণু থেকেও ছোট কিছু আয়নের অস্তিত্ব, যার শুরু হয়েছিল কোন এক একক শক্তি থেকে। সেই শক্তি কে ভারতীয় আধ্যাত্মবাদ ‘পরাশক্তি’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
আধ্যাত্মবাদ অনুযায়ী, মহাজগতে শক্তি দুই ধরনের, একটি শুভ শক্তি এবং একটি অশুভ শক্তি। আমরা এই মহাবিশ্বের পৃথিবী নামক একটি গ্রহের সর্বশ্রেষ্ঠ জীব। তাই আমরা যে মহাবিশ্বের সকল প্রকার শক্তির সাথে অবচেতন ভাবে হলেও জড়িত সেটা আধুনিক বিজ্ঞানও স্বীকার করে। আধ্যাত্মিকতার অতিপ্রাকৃত বিষয়ের তত্ত্বগুলি বিজ্ঞানের কাছে পছন্দের নয়, কিন্তু আজ একটি মারন ভাইরাস সারা বিশ্বজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, যার কোনো সঠিক সমাধান করতে পারছে না বিজ্ঞান, সেটি কি অশুভ নয়? এবং যদি সেই অর্থে এটিকে অশুভ শক্তি বা তাহলে কি এর কোনো সমাধান নেই?
কথায় আছে প্রতিটি মানুষের মধ্যেই ঈশ্বরের বাস। তাই এই পরিস্থিতিতে নিজেকে একা মনে করা কিংবা দুর্বল মনে করাটা কোনো ভালো কাজ নয়। এখন কথা হচ্ছে আমাদের মধ্যের অন্তর্নিহিত শক্তি কে আমরা কিভাবে সক্রিয় করবো এবং নিজের ওপর অগাধ বিশ্বাস রাখবো।
প্রদীপ বা মোমবাতি হল শক্তির উৎস যা অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে সক্ষম। প্রত্যেকটি ভারতবাসী যখন একই সঙ্গে এই ৯ মিনিটের জন্য একে অপরের শক্তি হয়ে উঠবে তখনই মহাশক্তি উৎপন্ন হবে। এটি কোনো বিশেষ দৈবশক্তি বলে একদিনেই করোনার থেকে দেশকে মুক্ত করবে না।
আমরা একসাথে থাকলে এই বিপর্যয়ে লড়াই করার শক্তি পাব। তাই সকলকে অনুরোধ করছেন নরেন্দ্র মোদী, রবিবার ৫ই এপ্রিল সকল ভারতবাসী বাড়ির বৈদ্যুতিক আলো নিভিয়ে প্রদীপ ও মোমবাতি জ্বালিয়ে শুভশক্তির আহ্বান করতে। যাদের হাতের কাছে প্রদীপ ও বাতি নেই তারা অন্ততপক্ষে টর্চ বা মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বেলেও যেন এই নিয়মটি পালন করেন।






