স্ত্রীর আলাদা থাকার সিদ্ধান্তে থামল না ভরণপোষণের দায়, শীর্ষ আদালতের রায়!

ভারতের শীর্ষ আদালত সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, স্ত্রী যদি বৈবাহিক সম্পর্ক পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আইনি প্রক্রিয়া মানতে অস্বীকার করেন, তবুও স্বামীকে তাঁর স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে হবে। ১৯৫৫ সালের হিন্দু বিবাহ আইনের ৯ নম্বর ধারার অধীনে স্ত্রীর এই অধিকার রয়েছে, এবং এমন পরিস্থিতিতে স্বামী তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাবে না। এই রায়টি বিশেষ করে হিন্দু বিবাহ আইনের ৯ নম্বর ধারাকে তুলে ধরেছে, যা স্ত্রীকে তার স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ দাবি করার অধিকার প্রদান করে।

এই রায়ের পেছনে থাকা মামলায়, স্ত্রীর দাবির ক্ষেত্রে আদালত উল্লেখ করেছে যে, তিনি বৈবাহিক সম্পর্ক পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মান্য সিদ্ধান্ত না নেওয়া সত্ত্বেও তার ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার হারাননি। মামলার প্রেক্ষিতে, শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে স্বামী ভরণপোষণের দায় থেকে মুক্তি পাবে না, যদিও স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে এক ছাদের নিচে থাকতে না চান।

মামলার বিবরণী অনুসারে, অভিযুক্ত স্বামী, দীনেশ, দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর স্ত্রীর প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করেছেন এবং গর্ভপাতের পর তাঁর স্ত্রী রিনার প্রতি অমানবিক আচরণ করেছিলেন। এর পরেই রিনা তার শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যেতে অস্বীকার করেন। আদালত বলেছে, স্ত্রীর শ্বশুরবাড়িতে না ফেরার সিদ্ধান্ত যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত এবং তার এই সিদ্ধান্তকে কোনওভাবেই ভুল হিসাবে চিহ্নিত করা যাবে না।

এখন প্রশ্ন উঠছে, যদি স্বামী মনে করেন যে স্ত্রীর সঙ্গে এক ছাদের নিচে না থাকার কারণে তিনি ভরণপোষণের দায় থেকে মুক্তি পেতে পারেন, তাহলে তা কীভাবে আইনের সঙ্গে মেলে? শীর্ষ আদালত এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে, এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ বলেছে, স্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত আইনের দৃষ্টিতে সমর্থনযোগ্য। আদালত আরও জানিয়েছে যে, স্বামীকে তার স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে হবে, এবং এই দায়িত্ব কোনো অবস্থাতেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

আরও পড়ুনঃ জাতীয় যুব দিবসে রাজ্যে উত্তেজনা ! স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী ও নিষিদ্ধ স্যালাইন বিতর্ক

এই মামলার চূড়ান্ত রায় ছিল, দীনেশকে প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা করে তার স্ত্রীর ভরণপোষণের জন্য দিতে হবে। শীর্ষ আদালতের এই রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি নারী এবং পুরুষের অধিকার ও দায়িত্বের সমতা নিশ্চিত করতে নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

RELATED Articles