পুলিশকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের অন্ত নেই। যে পুলিশের কাজ সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া, সেই পুলিশই যখন নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন এর থেকে ভয়ঙ্কর আর কিছু হয় না। এবার থানার মধ্যেই এক মহিলাকে শ্লীলতাহানি, তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে চাওয়ার অভিযোগ উঠল পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে।
আর জি কর কাণ্ডের জেরে এমনিতেই পুলিশের উপর বেশ ক্ষেপে রয়েছে আমজনতা। পুলিশের বিরুদ্ধে উঠেছে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ। আর এমন আবহে এবার পুলিশের বিরুদ্ধে উঠল শ্লীলতাহানির অভিযোগ। এক সেনা অফিসার অভিযোগ করেছেন, তাঁকে ও তাঁর বাগদত্তাকে থানার মধ্যে মারধর ও যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। মহিলার অভিযোগ, থানার অফিসার ইনচার্জ ও আরও চার পুলিশ কর্মী তাঁকে লাথি মারে, টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। বর্বরতার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেন অফিসার ইনচার্জ, এমনটাই দাবী নির্যাতিতার।
জানা গিয়েছে, ওই মহিলা পেশায় আইনজীবী। একটি রেস্তোরাঁ চালান তিনি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে সেনা অফিসার ও তিনি রেস্তোরাঁ বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী তাদের তাড়া করে। তাদের পথ আটকে মারধর করে তাদের। এই ঘটনায় তারা দু’জনেই বেশ ভয় পেয়ে যান।
ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার ভরতপুরে। জানা যায়, এরপর ওই যুগল ভরতপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করতে যান। কিন্তু পুলিশ তাদের অভিযোগ দায়ের তো দূর, উল্টে তাদের সঙ্গেই অপরাধীদের মতো আচরণ করতে থাকে। মহিলা জানান, পুলিশ তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে।
ওই যুগলের বিরুদ্ধে আবার পুলিশকে হেনস্থা করার অভিযোগ তুলেছে পুলিশ। যদিও নির্যাতিতার দাবী, “দুই মহিলা পুলিশ আমাকে চুল ধরে টেনে নিয়ে গিয়ে গিয়েছিল। আমি পাল্টা বাঁচার চেষ্টা করি। আত্মরক্ষার জন্য, আমি একজন মহিলা অফিসারের হাত কামড় দিয়েছিলাম”।
মহিলার দাবী, এরপর পুলিশ তাঁর হাত-পা বেঁধে একটি ঘরে ফেলে রাখে তাঁকে। এক পুলিশ আধিকারিক তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। তিনি এও অভিযোগ করেছেন, “একজন পুরুষ পুলিশ অফিসার এসে আমার অন্তর্বাস খুলে একটানা আমার বুকে লাথি মারতে থাকে”।
এখানেই শেষ নয়, নির্যাতিতা জানিয়েছেন, পরদিন সকাল ৬টা নাগাদ ইনস্পেক্টর ইনচার্জ থানায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন। মহিলার কথায়, “ইন্সপেক্টর ইনচার্জ আমাকে ধাক্কা দেয়, হুমকি দেয় এবং অশ্লীল ইঙ্গিত করে। আমার প্যান্ট খুলে দেন। তিনি নিজের প্যান্ট খুলে যৌনাঙ্গ দেখিয়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন। আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে চাওয়ার কথা জানান। তিনি আমাকে শ্লীলতাহানিও করেছেন”।
আরও পড়ুনঃ ফের রেল দুর্ঘটনা বাংলায়! ইঞ্জিন থেকে ছিটকে গিয়ে লাইনচ্যুত ট্রেনের একাধিক বগি, ফের একবার প্রশ্নের মুখে রেলের ভূমিকা
এই নিয়ে মহিলা অভিযোগ করলে পুলিশ সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। উল্টে যুগলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। অপরাধ সমন শাখা সেই ঘটনার তদন্ত শুরু করে। ওড়িশা হাইকোর্টে জামিন পান নির্যাতিতা। আর এরপরই পুলিশের এই কুকীর্তির কথা সর্বসমক্ষে বর্ণনা করেন তিনি। জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় ভরতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ-সহ ৫ পুলিশ কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে এমন এক ঘটনা ঘটায় এই নিয়ে কটাক্ষ শুরু করেছে বিরোধীরা। আঙুল তোলা হচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে।





