কেন্দ্র সরকারের জনহিত নীতির ফলাফল। ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে এক ধাক্কায় ভারতে ১২.৩ শতাংশ দারিদ্র্য কমেছে। এমনটাই বলছে বিশ্ব ব্যাঙ্কের এক গবেষণাপত্র। বিশ্ব ব্যাঙ্কের এই পরিসংখ্যান যে কেন্দ্র সরকারকে বেশ স্বস্তি দেবে, তা বলাই বাহুল্য।
বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রকাশ করা এই রিপোর্টে দাবী করা হয়েছে যে ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল, এই আট বছর দেশের গ্রামাঞ্চলে অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা শহরাঞ্চলের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। এই আট বছরে গ্রামাঞ্চলে দারিদ্রের হার কমেছে ২৬.৩ শতাংশ।
জানা যায়, ২০১১ সালে ভারতের গ্রামাঞ্চলে অতি দরিদ্র জনসংখ্যা ছিল ২৬.৩ শতাংশ। ২০১৯ সালে সেটা কমে হয়েছে ১১.৬ শতাংশ। ২০১১ সালে শহরাঞ্চলে গরিব ছিল ১৪.২ শতাংশ। ২০১৯ সালে সেটাও কমে হয়েছে ৬.৩ শতাংশ। এই আট বছরে শহরাঞ্চলে দরিদ্রের সংখ্যা কমেছে ৭.৯ শতাংশ।
২০১১ সালে সার্বিকভাবে যেখানে দেশে অতি দরিদ্র জনসংখ্যা ছিল ২২.৫ শতাংশ, সেখানে ২০১৯ সালে ভারতের সার্বিক অতি গরিবির হার দাঁড়িয়েছে ১০.২ শতাংশ। কিছুদিন আগেই আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার একটি রিপোর্টে দাবী করে যে ভারতে অতি গরীব প্রায় শূন্য হওয়ার পথে। সেই রিপোর্টকেই কার্যত স্বীকৃতি দিল বিশ্ব ব্যাঙ্কের এই রিপোর্ট।
উল্লেখ্য, ইউপিএ সময়কালের শেষ থেকেই প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষের কাছে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছিল। মোদীর জমানায় তা আরও বৃদ্ধি পায়। বিশ্ব ব্যাঙ্কের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে প্রান্তিক শ্রেণী ও ক্ষুদ্র কৃষকদের আয় বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। এই সময় সরকারি প্রকল্পের জেরে সাধারণ মানুষের হাতে সরাসরি টাকা বা খাদ্যশস্য পৌঁছেছে।
কিছুদিন আগে এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছিল যে নরেন্দ্র মোদীর সময়কালে ভারতের প্রায় ২৭ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার নীচে নেমে গিয়েছে। এই ঘটনা কেন্দ্র সরকারের ভাবমূর্তিকে ধাক্কা দিয়েছিল। সেই নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণের মুখেও পড়তে হয় কেন্দ্রকে। তবে এবার বিশ্ব ব্যাঙ্কের এই রিপোর্টকে হাতিয়ার করে যে কেন্দ্র সরকার বিরোধীদের পাল্টা জবাব দিতে সক্ষম হবে, তা বেশ স্পষ্ট।





