সেনাছাউনিতে জঙ্গি হামলায় নিহত ৯! চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা!

খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতি কিংবা সন্ত্রাসবাদকে মেলানো কখনোই কাম্য নয়। তবু বাস্তবের মাটিতে কখনও কখনও এই দুই এক বিন্দুতে এসে মিশে যায়। ক্রিকেটপ্রেমীরা যখন আগামী বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে উচ্ছ্বসিত, তখনই রক্তাক্ত হল সেই দেশ, যেখানে অনুষ্ঠিত হবে এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট। ক্রিকেটের মঞ্চ প্রস্তুত হলেও, পাকিস্তানের মাটিতে বারবার ফিরে আসছে এক ভয়ঙ্কর প্রশ্ন—নিরাপত্তা! আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানোর চেষ্টার মাঝেই এমন এক ঘটনা ঘটল, যা শুধু পাকিস্তান নয়, গোটা ক্রিকেটবিশ্বের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

বিগত কয়েক মাস ধরেই পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা বেড়েই চলেছে। নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিলেও, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে হামলার খবর আসছে প্রায়ই। এমন পরিস্থিতিতে আইসিসির চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো বড় টুর্নামেন্ট পাকিস্তানে আয়োজন করা কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক এই হামলাটি এতটাই তীব্র ছিল যে, সেটি কেবল পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্যও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় অবস্থিত সেনাছাউনিতে জোড়া আত্মঘাতী বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পাকিস্তান। বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আশপাশের বাড়িঘরও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা গেছে। হামলার পরপরই সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী এলাকা ঘিরে ফেলে এবং উদ্ধারকাজ শুরু হয়। তবে হামলার আসল চিত্র তখনও পুরোপুরি পরিষ্কার ছিল না।

আরও পড়ুনঃ বিকেল ৪টার ডেডলাইন! উপাচার্য হাসপাতালে, তবু আন্দোলন থেকে সরছে না ছাত্ররা!

পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে যখন বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি সেনাছাউনির গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে বহু মানুষ গুরুতর আহত হন। মৃতের সংখ্যা ৯-এ পৌঁছেছে, যার মধ্যে তিনজন শিশু ও দুইজন মহিলা রয়েছেন। আহত অন্তত ২০ জন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিস্ফোরণের পর সেনাছাউনির ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে আরও কয়েকজন জঙ্গি, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা। গুলির লড়াইয়ে ৬ জন জঙ্গি নিহত হয়।

হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘হাফিজ গুল বাহাদুর’ গ্রুপ, যারা আগেও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর উপর একাধিক হামলা চালিয়েছে। গত বছর একই সেনাছাউনিতে বিস্ফোরণে ৮ সেনার মৃত্যু হয়েছিল। এবার এই হামলার পর আন্তর্জাতিক মহল বিশেষ করে আইসিসি ও ক্রিকেট বোর্ডগুলির কপালে ভাঁজ পড়েছে। ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। আইসিসি ইতিমধ্যে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে এই হামলা যে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে একেবারে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এখন দেখার, এই ঘটনার প্রভাব চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ভবিষ্যতের উপর পড়ে কি না।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles