বিকেল ৪টার ডেডলাইন! উপাচার্য হাসপাতালে, তবু আন্দোলন থেকে সরছে না ছাত্ররা!

কলকাতার (Kolkata) অন্যতম বুদ্ধিজীবী কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) আবারও শিরোনামে। শিক্ষার মান, গবেষণা বা একাডেমিক সাফল্যের জন্য নয়, এবার বিতর্ক ঘিরে রয়েছে প্রশাসনিক অস্থিরতা ও ছাত্র আন্দোলন। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সাম্প্রতিক বিশ্ববিদ্যালয় সফর এবং ওয়েবকুপার বার্ষিক সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তারই রেশ এখনও কাটেনি। এই ঘটনাবলির মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে যাদবপুরের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ভাস্কর গুপ্তের অসুস্থতা।

একদিকে প্রশাসনিক চাপ, অন্যদিকে ছাত্রদের বিক্ষোভ—এই দুইয়ের মাঝে পড়ে শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন উপাচার্য। সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরেই তিনি শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করছিলেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে ১০ দিনের সম্পূর্ণ বিশ্রামের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনিক দায়িত্বের কারণে তিনি সম্পূর্ণভাবে বিশ্রামে যেতে পারেননি। এর মধ্যেই মঙ্গলবার তিনি ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ও আধিকারিকদের সঙ্গে। তবে এর মধ্যেই তাঁর শরীর আরও খারাপ হতে শুরু করে, আর বুধবার সকালে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধ্য হলেন তাঁর স্ত্রী কেয়া গুপ্ত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানাচ্ছে, সম্প্রতি যাদবপুর ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলির চাপেই উপাচার্যের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সময় ভাস্কর গুপ্তও হেনস্থার শিকার হন বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি। উপাচার্যের স্ত্রী কেয়া গুপ্ত জানান, তাঁর স্বামীর রক্তচাপ ওঠানামা করছে, তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে তাঁকে বাইপাসের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ যাদবপুরে শেষ সময়ের অপেক্ষা! উপাচার্য না এলে কী ভয়ংকর পদক্ষেপ নেবে পড়ুয়ারা?

এদিকে, আন্দোলনরত ছাত্ররা তাঁদের দাবিতে অনড়। তাঁরা সাফ জানিয়েছেন, উপাচার্যকে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতেই হবে। এই বিষয়ে তাঁরা বুধবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় না বসলে আন্দোলনের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পড়ুয়ারা। তবে উপাচার্যের বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অনেকেই মনে করছেন, এই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই। ফলে বিকেল ৪টার পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়েই এখন নজর রয়েছে সকলের।

২০১৫ সালেও একবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ভাস্কর গুপ্ত, সেই সময় টানা সাতদিন আইসিইউতে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। এবারও তাঁর শরীরের অবস্থা নিয়েই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে? ছাত্রদের আন্দোলন কোন দিকে মোড় নেবে? উপাচার্যের স্থায়ী উত্তরসূরির বিষয়ে কি নতুন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে? আপাতত এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও গোটা শিক্ষা মহল।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles