ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার শুরু? পাক রাষ্ট্রদূতকে আমেরিকায় ঢুকতে দিল না যুক্তরাষ্ট্র!

বিশ্ব কূটনীতির মঞ্চে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আমেরিকা এবং পাকিস্তানের সম্পর্ক বারবার বদলেছে। কখনও তারা ঘনিষ্ঠ মিত্র, আবার কখনও চরম দূরত্ব দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দুই দেশের নীতিগত অবস্থান বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলেছে সম্পর্ককে। তবে এবার পরিস্থিতি আরও জটিল হল, যখন পাকিস্তানের এক সিনিয়র কূটনীতিক আমেরিকায় ঢোকার অনুমতি পেলেন না!

কূটনৈতিক মহলে রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গেছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সাধারণত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন থাকে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তবে এবার সেই চেনা নিয়মের বাইরে গিয়ে আমেরিকা যা করল, তা নিঃসন্দেহে নজিরবিহীন। পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ এই কূটনীতিক যখন ছুটি কাটাতে লস অ্যাঞ্জেলেসে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তখন হয়তো ভাবতেও পারেননি যে বিমানবন্দর থেকেই তাঁকে ফেরত পাঠানো হবে।

জানা গিয়েছে, তুর্কমেনিস্তানে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত কে কে এহসান ওয়াগান (K K Ahsan Wagan) ছুটি কাটাতে লস অ্যাঞ্জেলেস যাচ্ছিলেন। তাঁর কাছে বৈধ ভিসা এবং সফর সংক্রান্ত সমস্ত নথি থাকলেও মার্কিন অভিবাসন দপ্তরের আধিকারিকরা তাঁকে বিমানবন্দরে আটকান। ‘দ্য নিউজ’-এর প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন অভিবাসী আধিকারিকরা দাবি করেন যে রাষ্ট্রদূতের ভিসা বিতর্কিত। যদিও আমেরিকা সরকার এই সিদ্ধান্তের কোনও নির্দিষ্ট কারণ জানায়নি। এরপরই তাঁকে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে তুর্কমেনিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়।

এই ঘটনায় পাকিস্তান সরকারের অস্বস্তি আরও বেড়েছে। পাক বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, “কে কে এহসান ওয়াগানকে আমেরিকা থেকে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। তাঁর ইমিগ্রেশন নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে।” বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার (Ishaq Dar) এবং সেক্রেটারি আমিনা বালোচ (Amina Baloch)। তাঁদের বক্তব্য, লস অ্যাঞ্জেলেসে পাকিস্তানি দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনা করে এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি ইসলামাবাদে কে কে এহসান ওয়াগানকে তলব করে তাঁকে বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ কংগ্রেস নেতার বাড়িতে ইডির অভিযান! ৩৩ লাখ টাকা উদ্ধার, কিন্তু ‘এটা বড় কিছু নয়’ বলছেন ভূপেশ বাঘেল!

এই ঘটনা শুধুই কূটনৈতিক কারণে ঘটেছে, নাকি প্রশাসনিক কোনও সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, এহসান ওয়াগানের প্রবেশাধিকারে নিষেধাজ্ঞার পিছনে কোনও কূটনৈতিক কারণ নেই। বরং প্রশাসনিক স্তরেই কিছু অভিযোগের ভিত্তিতেই আমেরিকা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
কিন্তু এই ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ আগেই প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) পাকিস্তানিদের আমেরিকায় প্রবেশাধিকার নিয়ে কড়া অবস্থানের কথা বলেছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানান, খুব শীঘ্রই পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য নতুন বিধিনিষেধ জারি করা হবে। তাই অনেকে মনে করছেন, রাষ্ট্রদূতের আমেরিকায় প্রবেশে বাধা দেওয়া সেই ঘোষণারই প্রাথমিক ইঙ্গিত।

এই ঘটনার পর আমেরিকা এবং পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণত কোনও দেশের রাষ্ট্রদূতকে ফেরত পাঠানো হলে তা দুই দেশের সম্পর্কে বড়সড় প্রভাব ফেলে। যদিও পাকিস্তান সরকার এখনও এই বিষয়ে কোনও কড়া প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে এই ঘটনাকে তারা মোটেও হালকাভাবে দেখছে না। এখন দেখার বিষয়, আমেরিকা সরকার এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় কি না এবং পাকিস্তান সরকার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিবাদ জানায় কি না। তবে এটুকু নিশ্চিত, আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা আরও বাড়বে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles