বর্তমান সময়ে রাজনীতির ময়দানে ক্ষমতা আর দুর্নীতির লড়াই যেন একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই কোনও না কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশি বা দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন ছত্তীসগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা ভূপেশ বাঘেল। সোমবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নগদ ৩২-৩৩ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে। তবে বাঘেল এই ঘটনা নিয়ে একেবারেই উদ্বিগ্ন নন। বরং তাঁর বক্তব্য, “এটা কোনও বড় বিষয় নয়, আমাদের ১৪০ একর জমি রয়েছে, সেখানে চাষ হয়। ফলে এই পরিমাণ অর্থ থাকা অস্বাভাবিক নয়।”
এই অভিযান শুধু বাঘেলের বাড়িতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁর ছেলে চৈতন্য বাঘেলের বিরুদ্ধে চলা মদ দুর্নীতি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই ইডি এই তল্লাশি চালিয়েছে। অভিযোগ, চৈতন্য বাঘেল বেআইনি উপায়ে প্রচুর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন, যার পেছনে দুর্নীতির যোগ রয়েছে। তদন্ত সংস্থা তাঁর ঘনিষ্ঠ লক্ষ্মী নারায়ণ ও আরও কয়েকজনের বাড়িতেও অভিযান চালায়। তবে তল্লাশির পর বাঘেল দাবি করেন, “ইডি আমার বাড়ি থেকে কোনও বেআইনি সম্পত্তি খুঁজে পায়নি, শুধু বিজেপি নেতাদের সংক্রান্ত কিছু নথি ছাড়া।”
এখানেই শেষ নয়, বাঘেল স্পষ্ট অভিযোগ করেন যে, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই কেন্দ্রীয় সরকার ইডিকে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, “আমি পাঞ্জাব কংগ্রেসের দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই আমার বিরুদ্ধে এই অভিযান চালানো হয়েছে। বিজেপি এতটাই হতাশ যে বিরোধী নেতাদের দমন করতেই ইডিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।” তিনি আরও বলেন, “আমি বিধানসভায় গরিবদের জন্য গৃহ নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম। মাত্র চার দিনের মধ্যেই ইডি আমার বাড়িতে হাজির! এটা কি নিছকই কাকতালীয়?”
আরও পড়ুনঃ নারী শুধু ‘ডাইনি’ নয়, লড়াকুও! সমাজের অন্ধকারে আলো ফেলতে আসছে মিমি চক্রবর্তীর নতুন সিরিজ ‘ডাইনি’, ১৪ মার্চ!
অন্যদিকে, বিজেপি কংগ্রেস নেতার এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছে, “কোনও দোষ না থাকলে তদন্ত নিয়ে এত ভয় কিসের? কংগ্রেস বরাবরই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে। বাঘেল জানেন তিনি কী করেছেন, তাই তদন্তের বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করছেন।” বিজেপির তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, “মদ দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগ থেকে নিজেকে বাঁচাতেই এখন নাটক করছেন বাঘেল।”
এই বিতর্কের পরিসমাপ্তি কবে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিরোধীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত ও তল্লাশি নিয়ে যে রাজনৈতিক তরজা চলবে, তা নিশ্চিত। একদিকে কংগ্রেস বলছে, বিজেপি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে ইডিকে ব্যবহার করছে, অন্যদিকে বিজেপি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অনড়। এর মাঝেই সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন—এই তদন্ত কি সত্যিই আইনের পথে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে?





