‘মিথ্যে বলছেন উনি, কোনও কর্ডন ছিল না, আমরা ওখানে ওই সময় ছিলামই না…’, ডিসি সেন্ট্রালের দাবীকে খণ্ডালেন আর জি করের নির্যাতিতার মা-বাবা

আর জি কাণ্ড নিয়ে ফের তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দু’দিন আগেই এক ভিডিও ভাইরাল হয় যেখানে দেখা গিয়েছিল যে সেমিনার রুম থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়, সেই রুমে সেই সময় ছিল থিকথিকে ভিড়। বহিরাগত লোকজন কীভাবে সেমিনার রুমে ঢুকেছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই সাংবাদিক বৈঠক করা হয় লালবাজারের তরফে। সেখানে ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় জানান, সেমিনার রুমে যেখানে বডি পাওয়া গিয়েছিল, সেখান থেকে ৪০ ফুটের মধ্যে কর্ডন করা ছিল। বাকি ১১ ফুটের মধ্যে অন্যান্য লোকজন ও নির্যাতিতার মা-বাবা ছিলেন।

তবে তাঁর এই দাবী খণ্ডালেন নির্যাতিতার মা-বাবা। তারা জানান, তাদের সেই সময় সেমিনার রুমে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। তারা গিয়েছেন দুপুর সাড়ে ৩টে নাগাদ। নির্যাতিতার বাবা জানান, “ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের এত মিথ্যা বলার প্রয়োজনীয়তা কী ছিল? উনি সব মিথ্যা কথা বলছেন। আমাদের পরিবারের কাউকে সাড়ে তিনটের আগে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলানো হয়েছে সিপির ফোন থেকে। আর আমরা যখন ঢুকি সেখানে সিপি ছাড়া আর কেউ ছিল না। সিপি ছাড়া কেউ আমাদের ওইখানে নিয়ে যাননি”।

নির্যাতিতার মায়ের কথায়, সেদিন যখন তাদের বাইরে বসিয়ে রাখা হয়, তখন সেমিনার হলে আরও অনেক লোকই ছিলেন। তাদের বলা হয়েছিল, সেখানে ফরেন্সিকের লোক। কিন্তু এখন ভাইরাল ভিডিও দেখে তাঁরা অবাক। এতজন সেখানে ঢুকতে পারল, কিন্তু তাঁদের কেন আটকে দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নির্যাতিতার মা-বাবা।

ডিসি ইন্দিরা মুখোপাধ্য়ায় যে দাবী করছেন, ঘরের মধ্যে দেহ যেখানে পাওয়া যায়, সেই স্থল কর্ডন করে দেওয়া হয়, তা সর্বৈব মিথ্যে দাবী। নির্যাতিতার বাবা জানান, তিনি তো বিষয়টার মধ্যে ছিলেনই না। তিনি বলেন, “ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় ওখানে ছিলেনই না। সব সিরিয়ালের সাজিয়ে দেখানো হচ্ছে। আমরা সেই সময় ওখানে ছিলামই না। আমরা যখন সেমিনার রুমে গেলাম, তখন পুলিশ কমিশনার ছাড়া ভেতরে কেউ ছিল না। পরিকল্পনামাফিক সব করা হচ্ছে। আমাদের মনে হচ্ছে ওখানে ঘটনাটা ঘটেই নি। আমাদের সবটা সাজিয়ে দেখানো হচ্ছে”।

তাদের মেয়ের সঙ্গে কী কারোর শত্রুতা ছিল? নির্যাতিতার বাবা মায়ের দাবী, তেমন কিছুই ছিল না। মেয়ে পড়াশোনা নিয়েই থাকত। সাতে-পাঁচে থাকতেন না তাঁর মেয়ে। মেডিক্যাল কলেজে কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনও সমস্যার কথাও কখনও বলেননি নির্যাতিতা।

আরও পড়ুনঃ ‘যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়…’, আর জি কর কাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ বর্ষণ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর, বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে?

তাহলে কী কাউকে সন্দেহ করছেন তারা? নির্যাতিতার মা-বাবার কথায়, “কে করেছে তা তো জানি না। তবে বিচার নিয়ে আশা রাখছি। যতদিন না বিচার পাচ্ছি, ততদিন লড়ব”।  

RELATED Articles