অবৈধ কয়লা ব্যবসার অভিযোগে বহুদিন ধরেই নজরে ছিলেন ধানবাদের কুখ্যাত ঠিকাদার লালবাবু ওরফে এলবি সিং। ঠিকাদারি করে রাতারাতি রীতিমতো কোটি টাকার মালিক হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ। সেই অর্থের উৎস এবং এর সঙ্গে যুক্ত চক্র সম্পর্কে তথ্য পেতে শুক্রবার সকাল থেকেই লালবাবুর বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে ইডি। কিন্তু তদন্ত শুরু হতে না হতেই ঘটে অদ্ভুত এক ঘটনা।
সকাল প্রায় ৭টা। তদন্তকারী দল নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে পৌঁছে যায় ধানবাদের ওই বাড়ির সামনে। গেট খুলতেই ভেতর থেকে তেড়ে আসে সাতটি হাস্কি প্রজাতির পোষ্য কুকুর। অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত ঠেকাতে লালবাবু ইচ্ছাকৃতভাবে ওই কুকুরগুলোকে ছেড়ে দেন। অপরিচিত এতজন লোক দেখে কুকুরগুলি চেঁচামেচি এবং তেড়ে আসতে শুরু করলে তদন্তকারীরা সাময়িকভাবে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হন। পরিস্থিতি এমনই জটিল ছিল যে প্রায় এক ঘণ্টা গেটের বাইরে দাঁড়িয়েই অপেক্ষা করতে হয় ইডি দলের সদস্যদের।
শেষমেশ বাড়ির লোকজন কুকুরগুলোকে ভিতরে নিয়ে গেলে তবেই ইডি দল ঢোকার সুযোগ পায়। এরপর শুরু হয় বাড়ি তল্লাশি। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কয়লা ব্যবসা এবং দরপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল টাকার মালিক হয়েছেন এলবি সিং। এবার সেই অভিযোগের প্রমাণ খুঁজতেই এই অভিযান।
এটি প্রথমবার নয়। প্রায় দশ বছর আগে বিসিসিএলের টেন্ডার দুর্নীতি মামলায় তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালাতে এসেছিল সিবিআই। তখন লালবাবুর অনুগামীরা ঘিরে ধরে তদন্তকারীদের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এমনকি বোমাবাজির ঘটনাও ঘটে। বাধ্য হয়ে সেদিন তল্লাশি না করেই ফিরে যেতে হয়েছিল সিবিআইকে।
আরও পড়ুনঃ West Bengal : “ফেসবুকে লিখেছিলাম ‘ফ্রম কলকাতা’, আসলে বাংলাদেশি… ২০ হাজারে কাগজপত্র করেও আজ পথে বসেছি”— হাকিমপুরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন রনি!
ঠিক একই রকম ঘটনা ঘটেছিল ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সন্দেশখালিতে, যখন রেশন দুর্নীতির তদন্তে ইডির উপর হামলা হয়েছিল। এবারও তদন্ত আটকানোর কৌশল নতুন। সাতটি পোষ্য কুকুরকে ঢাল করে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা, আর তা দেখে হতবাক তদন্তকারীরা। তবে শেষ পর্যন্ত কুকুর বাধা ভুলে তদন্তে নামতে সক্ষম হয়েছে ইডি।





