95 Years Old Selling Fuchka: একাত্তর সালে বাংলাদেশের সন্ত্রাসীদের হাতে স্বামী মারা যান। গুলি করে হত্যা করেছিল দুষ্কৃতীরা। নিজের প্রাণ বাঁচাতে এপার বাংলায় এসে আশ্রয় নেন। বহুদিন পার হয়ে যায় পার হয় বহু যুগ এখন বয়স ৯৫। ওপার বাংলা থেকে এসে এপার বাংলায় বসবাস করতে শুরু করেন। নিজের বয়সের কথা নিজের মুখেই স্বীকার করেন মধ্যমগ্রামের পুষ্প মন্ডল। বহু যুগ আগে এবার বাংলায় আসলেও পাকাপাকি কোন আশ্রয় করতে পারেননি তিনি। স্থানীয় যুবকদের সহায়তায় রেল পাড়ের এক অস্থায়ী মাথা গোজার ছাউনিতে তার দিন কাটে। তবে এত বয়স হওয়া সত্ত্বেও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করেন বৃদ্ধা পুষ্পরানি (95 Years Old Selling Fuchka)।
এখন সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলাতে রীতিমতো ভাইরাল হয়েছেন বছর ৯৫ এর এই বৃদ্ধা। মধ্যমগ্রাম এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে টিকিট কাউন্টার সংলগ্ন মাঠের ধারে দেখাও পাওয়া যায় বৃদ্ধ পুষ্প মন্ডলের। জীবন থাকতে ভিক্ষাবৃত্তি করেননি, এত বছর বয়সেও ফুচকা বিক্রি করেন তিনি। কাঁপা, কাঁপা হাতে আলু মাখেন তেঁতুল গলা জলে ফুচকা ডুবিয়ে পরিবেশন করেন ক্রেতাদের। হ্যাঁ, এই বৃদ্ধা মুখরোচক ফুচকা বিক্রি করেন। নিজের হাতেই ফুচকা তৈরী করেন পুষ্পরানী (95 Years Old Selling Fuchka)। ফুচকা বিক্রি করে এক মেয়েকে বিয়েও দিয়েছেন তিনি। এখন নিজের সংসার চালাতে কারোর ওপর দায়বদ্ধ নন। নিজের সংসার নিজের আয়ে চালান।
বিয়ের পর মেয়ে থাকে শিলিগুড়িতে। মেয়ের সংসারে বোঝা হতে চান না বৃদ্ধা মা। তাই নিজের পেট চালাতে ভাতের জোগাড় করতে ফুচকা বিক্রি করে দিন চালাচ্ছেন। অক্লান্ত পরিশ্রম করে নিজের রোজগার নিজেই করে নেন। ১০০-২০০ যার রোজগার হয়, তা কোন রকমে চলে যায় বৃদ্ধার (95 Years Old Selling Fuchka)। একা সংসারে কতইবা আর দরকার লাগে। মধ্যমগ্রাম স্টেশন সংলগ্ন সুভাষপল্লী কোয়ার্টারের পিছনেই ছোট্ট অস্থায়ী ঘরে রাত কাটান তিনি। সকাল বা রাতে ছাতু মুড়ি খেয়েই দিন কেটে যায় পুষ্পরানীর। দুপুরে একবেলা মাছের ঝোল ভাত খান। বাধ্যকের ছাপ চোখে-মুখে স্পষ্ট। শরীর দুর্বল হয়ে গিয়েছে, তবুও পেটের দায়ে আয় করছেন তিনি। নিজেই ফুচকা গাড়ি ফেলে নিয়ে আসেন স্টেশন এলাকায়। জীবন যুদ্ধ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ৯৫ বছরের বৃদ্ধা পুষ্প মন্ডল (95 Years Old Selling Fuchka)।
পুষ্পরানীর কথায়, “সন্তানরা মায়ের যত্ন নেয়, আমার তো ছেলে নেই তাই পাড়ার ছেলেরাই আমাকে দেখে রাখে। ফুচকা বিক্রি করে আমার দিন চলে যায়। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি শিলিগুড়িতে। ওখানে যাব না। এখানে অস্থায়ী বাড়ি বানিয়ে দিয়েছে পাড়ার ছেলেরা” (95 Years Old Selling Fuchka)।





