টলিপাড়ার অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। শনিবার বিকেলে তারকা অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তীসহ একাধিক তারকা রাহুলের মৃত্যুর বিচার দাবিতে একত্র হয়েছিলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারও। রাতের দিকে, প্রিয়াঙ্কার নেতৃত্বে একটি প্রতিবাদী দল দিঘার কাছে তালসারি পৌঁছায়, যেখানে রাহুলের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। এর পরদিন, রিজেন্ট পার্ক থানায় এফআইআর দায়ের করেন শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়।
তালসারি থানায় প্রিয়াঙ্কা সরকার নিজে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি অভিযোগে জানিয়েছেন যে, রাহুলের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর কর্ণধার শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল, ফ্লোর এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার শান্তনু নন্দী এবং প্রযোজনা সংস্থার ম্যানেজার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে পরিকল্পিতভাবে অবহেলাভাবে শুটিং পরিচালনা এবং নিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া, যা মৃত্যুর কারণ হয়েছে বলে প্রিয়াঙ্কার দাবি।
আরও পড়ুনঃ মাথা ব্যথা দিয়ে সূত্রপাত, এক রাতেই একাধিকবার হার্ট অ্যা’টাক! শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়! উদ্বেগে পরিবার, এখন কেমন আছেন জানালেন সুদীপ চট্টোপাধ্যায়?
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রাহুলের মৃত্যুর কারণ ছিল জল ডুবিয়ে মারা যাওয়া। তবে কীভাবে এবং কেন এমন ঘটনা ঘটল, সেই বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রিয়াঙ্কা তার অভিযোগে বলেছেন যে, শুটিংয়ের আগে কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল অত্যন্ত অরক্ষিত। এজন্য প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, এই অবহেলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ শুটিংয়ের কারণেই রাহুলের অকাল মৃত্যু ঘটেছে।
এফআইআর-এ প্রিয়াঙ্কা অভিযোগ করেছেন, রাহুলের মৃত্যুর পর অভিযুক্তরা মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছেন। এদিকে, প্রযোজনা সংস্থা বা অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। রাহুলের মৃত্যু নিয়ে তার পরিবার এবং সহকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং তারা বিচারের জন্য একজোট হয়েছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছেন, কিন্তু এখনও কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি।
প্রিয়াঙ্কা সরকার তার বয়ানে আরও বলেছেন, “আমি আমার স্বামীকে হারিয়েছি, মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত। তাঁর মৃত্যুর শোক সামলাতে গিয়েই অভিযোগ দায়ে করতে বিলম্ব হয়েছে।” রাহুলের মৃত্যু নিয়ে তদন্তে গতি আনার জন্য প্রিয়াঙ্কা এবং টলিপাড়ার অন্যান্য তারকারা একযোগে কাজ করছেন। প্রযোজনা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানানো হচ্ছে।





