নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনীতি যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে চাপানউতোর আর অন্তর্দ্বন্দ্বের গুঞ্জন। মাঠে-ময়দানে সভা, প্রচার সবকিছুর মধ্যেই কোথাও যেন লুকিয়ে থাকছে এক অদৃশ্য টানাপোড়েন। ঠিক এই আবহেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবার সভা ঘিরে তৈরি হল নতুন জল্পনা, যেখানে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা সামনে এল দলের অন্দরের জন্যই।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরেই শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে আলোচনা চলছে। দলের ভেতর থেকেই কি কেউ ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, এই প্রশ্নও উঠছে বারবার। এই পরিস্থিতিতে গোসাবার সভা থেকে কার্যত সেই বিতর্কেই নতুন মাত্রা যোগ করলেন অভিষেক ব্যানার্জি। যদিও তিনি সরাসরি কারও নাম করেননি, তবে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল কড়া সতর্কবার্তা।
সভামঞ্চ থেকে অভিষেক জানান, কারা দলের বিরুদ্ধে কাজ করছে, কারা বাইরে থেকে অর্থ নিয়ে তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, সব তথ্য তাঁর কাছে রয়েছে। এমনকি তিনি দাবি করেন, গোপন বৈঠকের খবরও তাঁর অজানা নয়। তাঁর কথায়, “কারা কোথায় কী করছে, সব জানি” এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়। এতে বোঝা যায়, বিষয়টি শুধুই অভিযোগ নয়, বরং নজরদারিরও ইঙ্গিত।
আরও পড়ুনঃ ‘তুমি রোহিঙ্গা, তুমি জেহাদি’, মাংস বিক্রেতাকে ঘিরে তুমুল বিত*র্ক! ভোটের আগে বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে হেন*স্থার অভিযোগে উত্তাল রাজনীতি!
সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তৈরি হয়েছে তাঁর হুঁশিয়ারির অংশ ঘিরে। তিনি স্পষ্ট বলেন, ভোট গণনার দিন অর্থাৎ চার তারিখের পর পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। “তারপর বাকি জীবনটা কীভাবে কাটবে, সেটা ভেবে রাখুন” এই মন্তব্যে কার্যত দলের ভেতরের বিরোধীদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, ফল প্রকাশের পর বড় ধরনের সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
একই সঙ্গে বিরোধী দলকেও আক্রমণ করতে ভোলেননি অভিষেক। তিনি দাবি করেন, আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির আসন সংখ্যা ৫০-এর নিচে নামিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। সব মিলিয়ে, গোসাবার এই সভা শুধু প্রচারসভা নয় বরং নির্বাচনের আগে দলের ভেতরে এবং বাইরে, দু’দিকেই শক্ত বার্তা দেওয়ার মঞ্চ হয়ে উঠল।





