‘প্রমাণ হল আমি ভুল বলিনি, ঈশ্বর বিচার করaলেন…’, সন্দীপ ঘোষের গ্রেফতারির পর বললেন শান্তনু সেন

আর জি করে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় প্রথম থেকেই অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। এমনকি, তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেনও দাবী করেছিলেন যে সন্দীপকে নাকি বুক দিয়ে আগলে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেছিলেন যাতে সন্দীপ ঘোষকে সিবিআই হেফাজতে নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। এবার সন্দীপের গ্রেফতারির পর মুখ খুললেন শান্তনু সেন।

আর জি করে তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনার পর প্রবল রোষের মুখে পড়েছিলেন সন্দীপ ঘোষ। অধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। এর কয়েক ঘণ্টা পরই ফের ন্যাশানাল মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পদে বহাল করা হয়েছিল তাঁকে। এরপর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সন্দীপ ঘোষকে কাজে বহাল করা হয়নি। আর জি করের ঘটনার তদন্তভার সিবিআই নেওয়ার পর সন্দীপ ঘোষকে টানা ১৬ দিন জেরা করা হয়। অবশেষে গতকাল, সোমবার সন্ধ্যেয় গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।

এর আগে সন্দীপের বিরুদ্ধে শান্তনু সেন বলেছিলেন, “আর জি করে এর আগেও অনেকেই অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু সন্দীপ ঘোষকে নিয়ে যত অভিযোগ উঠেছে, তা আর কাউকে নিয়ে ওঠেনি। এ রাজ্যের মহিলাদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক করছেন। আমি একজন অনুগত সৈনিক হিসেবে তাঁর পাশে থাকব। কিন্তু এটা বলতেই হচ্ছে ওঁর কাছে আরজি করে কী হচ্ছে তার সমস্ত খবর পৌঁছয় না”।

মুখ খোলার জেরে তৃণমূলের মুখপাত্র পদ থেকে সরানো হয়ে শান্তনু সেনকে। এবার সন্দীপ ঘোষ গ্রেফতার হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলেন তিনি। শান্তনু লেখেন, “ঈশ্বর বিচার করলেন। প্রমাণ হল আমি ভুল বলিনি। সঠিক জায়গায় দুর্নীতির তথ্যগুলো অনেক আগেই জানিয়েছিলাম”।

শুধুমাত্র শান্তনুই নন, আর জি করের ঘটনায় মুখ খুলেছিলেন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ও। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। এরপর গতকাল সন্দীপ ঘোষ গ্রেফতার হওয়ার পর ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেন সুখেন্দুশেখর রায়। তিনটি উইকেটের ছবি দিয়েছেন তিনি যার মধ্যে মিডল স্ট্যাম্প ভাঙা। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “মিডল স্ট্যাম্প উপড়ে গেল, এরপর কী”?   

আরও পড়ুনঃ ‘দিনদিন ডাক্তাররা কসাইতে পরিণত হচ্ছেন’, আন্দোলনরত চিকিৎসকদের আক্রমণ লাভলি মৈত্রের, তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের থানায়

নিজের এই পোস্টে যদিও তিনি সন্দীপ ঘোষের নাম নেন নি। তবে ইঙ্গিত যে তাঁরই দিকে তা বেশ স্পষ্ট। তবে প্রশ্ন উঠেছে বাকি দুই স্ট্যাম্প নিয়ে। একটি স্ট্যাম্প তো ডাউন, তাহলে বাকি দুটি কে হতে পারে? তা নিয়ে চলছে জল্পনা।  

RELATED Articles