মৌনী অমাবস্যায় মহাকুম্ভে পদপৃষ্ঠের মর্মান্তিক দৃশ্য! বাড়ছে মৃ’ত্যু ও আহতের সংখ্যা!

মহাকুম্ভ মেলা(Kumbha Mela) হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি অত্যন্ত পবিত্র ও বৃহত্তম সমাবেশ, যা প্রতি ১২ বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়। এই মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী সমবেত হন পুণ্যস্নানের জন্য। বিশেষ করে মৌনী অমাবস্যার দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই দিনে পুণ্যস্নানকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। তবে এত বিশাল জনসমাগমের কারণে প্রায়ই নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় প্রশাসনকে।

সাম্প্রতিক মহাকুম্ভ মেলায়, মৌনী অমাবস্যার পুণ্যস্নানের সময় একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। উত্তরপ্রদেশের ত্রিবেণী সঙ্গমে (গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী নদীর মিলনস্থল) পুণ্যস্নানের জন্য আগত হাজার হাজার তীর্থযাত্রীর ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ২টো নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে, যখন প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে ব্যারিকেড ভেঙে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুণ্যস্নানের জন্য প্রচুর পুণ্যার্থী সঙ্গমে পৌঁছানোর পর, স্নান শেষে কোথায় যাবেন তা বুঝতে না পেরে অনেকেই বিভ্রান্ত হন। এর মধ্যে ময়লা ফেলার জন্য রাখা লোহার পাত্রে ধাক্কা লেগে কয়েকজন ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান, এবং তাদের মাথায় থাকা ভারী জিনিসপত্রও পড়ে যায়। এর ফলে হুড়োহুড়ি শুরু হয় এবং পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার পর দ্রুত ঘাটে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স আনা হয় এবং আহতদের মেলা প্রাঙ্গণের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে কুম্ভ প্রশাসন আখড়ার পুণ্যস্নান স্থগিত করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং যাবতীয় সহযোগিতা প্রদানের নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, এবারের মৌনী অমাবস্যার তাৎপর্য আরও বেশি ছিল, কারণ ১৪৪ বছরের পর বিরল ‘ত্রিবেণী যোগ’ পড়েছিল। এই বিশেষ যোগের কারণে পুণ্যার্থীদের ভিড় অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি ছিল, যা ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে।

আরও পড়ুনঃ হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীকে ফেলে মোবাইলে ব্যস্ত চিকিৎসক! অকালমৃত্যু এমার্জেন্সিতে!

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা মহাকুম্ভ মেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন তুলেছে। প্রশাসনের উচিত উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভিড় নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles