তথ্যপ্রযুক্তির জগতে দীর্ঘদিন ধরেই স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে ভারতের অন্যতম বৃহত্তম সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিস (TCS)। তবে চলতি বছরে একাধিক বদলের ইঙ্গিতে উত্তেজনা ছড়িয়েছে শেয়ার বাজারে। বিশেষ করে, কর্মী ছাঁটাই সংক্রান্ত সাম্প্রতিক ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগের সঞ্চার করেছে। অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন—এই ধাক্কা সাময়িক, না কি এটি বড়সড় কোনও পরিবর্তনের পূর্বাভাস?
সোমবার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা সামনে আসতেই টিসিএস-এর শেয়ারে ব্যাপক পতন দেখা যায়। একদিনেই কোম্পানির শেয়ার দাম কমেছে ১.৬৯ শতাংশ, যার দর গিয়ে ঠেকেছে ৩,০৮১ টাকায়। এর প্রভাব পড়েছে নিফটি আইটি সেক্টরাল ইনডেক্সেও, যা প্রায় ১.৬০ শতাংশ পড়ে যায়। গত এক সপ্তাহে টিসিএস-এর শেয়ারের দাম কমেছে ১.৭৮ শতাংশ। বিনিয়োগকারীদের মনে ধীরে ধীরে প্রশ্ন জাগছে, এত বড় একটি সংস্থা হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হল কেন?
টিসিএস জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সংস্থা থেকে ১২,২৬১ জন কর্মীকে ছাঁটাই করা হবে। বিশেষ করে সিনিয়র ও মিড লেভেল স্তরে কর্মীদের চাকরি যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। জুন পর্যন্ত সংস্থার মোট কর্মী সংখ্যা ছিল ৬ লক্ষ ১৩ হাজার ৬৯ জন। একইসঙ্গে এই বছর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে টিসিএস প্রায় ৫ হাজার নতুন কর্মীকেও নিয়োগ করেছে। তবু কেন এত বড় ছাঁটাই? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে শিল্পমহলে।
অনেকেই ভেবেছিলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ব্যবহারের ফলে কর্মীর চাহিদা কমে গেছে বলেই হয়তো ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত। তবে টিসিএস-এর সিইও ও এমডি কে কৃতিবাসন এক সাক্ষাৎকারে জানান, এই সিদ্ধান্তের পিছনে এআই নয়, বরং কর্মীদের স্কিল মিসম্যাচ ও ডেপ্লয়মেন্ট সংক্রান্ত সমস্যা কাজ করছে। তিনি আরও জানান, সংস্থা ভবিষ্যতেও হাই কোয়ালিটি ট্যালেন্ট নিয়োগ করবে এবং কর্মীদের বেঞ্চ পিরিয়ড ৩৫ দিনে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত তারই অঙ্গ।
আরও পড়ুনঃ Crime Alert: সম্পর্কের নামে প্রতারণা! হোটেলে ডেকে চা খাইয়ে অজ্ঞান করল যুবককে, উধাও মোবাইল-টাকা!
শেষ ৬ মাসের হিসাব বলছে, টিসিএস-এর শেয়ারের দাম ২৩ শতাংশ কমেছে। নিফটি আইটি সেক্টরাল ইনডেক্সও এই সময়কালে ১৫ শতাংশের বেশি পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি শুধুই টিসিএস-এর সমস্যা নয়, বরং গোটা আইটি সেক্টরেই একটা ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে টিসিএস-এর মতো সংস্থার এই ধরনের ছাঁটাই সিদ্ধান্ত অন্যান্য সংস্থাকেও চাপের মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।





