আগামী ৩১শে জুলাই পর্যন্ত তথ্য প্রযুক্তি কর্মীদের জন‍্য জারি থাকবে ওয়ার্ক ফ্রম হোম, গ্রিন সিগন্যাল কেন্দ্রের।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশে চলছে দ্বিতীয় দফায় লকডাউন। কিন্তু এই অবস্থাতেও রোজ‌ই বেড়ে চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। ইতিমধ্যেই ভারতে ৩০ হাজার মানুষ করোনা সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। এই অবস্থায় আগামী ৩রা মে কেন্দ্রের লকডাউনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তারপর সরকার কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে  তাঁর দিকেই তাকিয়ে এখন গোটা দেশ। লকডাউন উঠে যাবে না বাড়বে চিন্তিত আপামর ভারতবাসী।

এইদিকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা ইতিমধ্যে লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীও মেয়াদ বৃদ্ধির পথেই এগোচ্ছেন বলে সূত্রের খবর। তবে যদি দেশে লকডাউন উঠেও যায়, জনজীবন স্বাভাবিক হবে না, সেই কথা সকলের‌ই জানা। ঘাড়ে চাপবে হাজারো বিধিনিষেধ ও সামাজিক দূরত্বের বিধি। এর মধ্যেই তথ্য প্রযুক্তি সংস্থার কর্মীরা ৩১শে জুলাই পর্যন্ত বাড়িতে বসেই কাজ করতে পারবেন সেই বিষয়ে গ্রিন সিগন্যাল দিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার।

মঙ্গলবার বিভিন্ন রাজ্যের তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তি ও টেলিকমিউনিকেশন মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ। সেখানেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, ৩১শে জুলাই পর্যন্ত বাড়িতে বসেই কাজ করতে পারবেন তথ্য প্রযুক্তি সংস্থার কর্মীরা। এর আগে সব তথ্য প্রযুক্তি সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত তাঁদের কর্মীরা যাতে বাড়ি থেকেই কাজ করতে পারেন সেই বিষয়ে খেয়াল রাখতে। তবে মঙ্গলবার বৈঠকের পর জানানো হয়েছে, পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনা না করা পর্যন্ত জুলাই অবধি সকলেই বাড়ি থেকে কাজ করতে পারবেন।

বৈঠকে রাজ্যগুলি কেন্দ্রের কাছ থেকে কী ধরনের সুবিধা ও সাহায্য আশা করছে, সে বিষয়টাও আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এও জানান, তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে ওয়ার্ক ফ্রম হোমটাই ভবিষ্যৎ। এটিই দেশের কর্ম সংস্কৃতি হতে চলেছে, তা এখন নিশ্চিত। বর্তমানে লকডাউনের ভারতে ৮৫ শতাংশ কাজই বাড়ি থেকেই করছিলেন আইটি কর্মীরা। সেই ব্যবস্থাই আপাতত চালু থাকবে।

ট্যুইট করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ জানান, “ওয়ার্ক ফ্রম হোমের মেয়াদ ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। তবে তথ্য প্রযুক্তি সংস্থাগুলির আবেদন মেনে কেন্দ্রের টেলি যোগাযোগ মন্ত্রক ভিপিএন–এর শর্তাবলী ছাড় দিয়েছে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত। এর আগে এই ছাড়ের সময়সীমা ছিল ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।”

সাংবাদিকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে রবিশঙ্কর জানান, বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদী একটা অ্যাপ তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন। যেখানে এই অতিমারীকে কীভাবে হারানো যায়, সেই তথ্য এবং কৌশল আদান-প্রদান করা হবে। এর মাধ্যমে কিছুটা সহজ হয়ে যাবে কোভিড-১৯ কে আটকানোর পথটি। এই পরামর্শ সকলেই মেনে নেন এবং তিন দিনের মধ্যে অ্যাপ তৈরির নির্দেশও দিয়ে দেওয়া হয় ন্যাশনাল ই গভর্ন্যান্স ডিভিশন ও ন্যাশনাল ইনফর্মেটিকস সেন্টারকে।

RELATED Articles

Leave a Comment