লোকসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই দলের ভিতরে নতুন করে সাজানোর পথে হাঁটছে তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে সাংসদদের পদে রদবদল, অন্যদিকে নেতৃত্বের হাতবদল—সব মিলিয়ে একাধিক পদে পরিবর্তন এনে শক্তি বৃদ্ধির কৌশল নিচ্ছে ঘাসফুল শিবির। এর মধ্যেই শাসকদলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে তৈরি হল নতুন জল্পনা। বিশেষ করে দলের ‘চিফ হুইপ’ বা মুখ্য সচেতকের পদে পরিবর্তন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
গতকালই আচমকা ‘চিফ হুইপ’ পদ থেকে ইস্তফা দেন তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু ইস্তফাই নয়, পদত্যাগের সঙ্গেই প্রকাশ্যে দলের একাংশ সাংসদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। এমনকী নিজের অনভিপ্রেত মনোভাবও জানান স্পষ্ট ভাষায়। এই ঘটনা ঘিরে রাজ্য-রাজনীতিতে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। প্রশ্ন উঠে, তাহলে কি অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের জেরেই এমন পদক্ষেপ?
কল্যাণের পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর, চুপ করে থাকেনি দল। বরং তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন মুখ্য সচেতকের নাম ঘোষণা করে তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, দলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মতিতেই এই রদবদল হয়েছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসুস্থতার কারণে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভা দলনেতা করার পর, চিফ হুইপ পদেও নতুন নেতৃত্ব আনল দল।
এবার লোকসভায় তৃণমূলের নতুন মুখ্য সচেতক হলেন বসিরহাটের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলের প্রবীণ এবং অভিজ্ঞ এই নেত্রী দীর্ঘদিন ধরেই সংসদীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। তাঁর অভিজ্ঞতার উপর ভরসা রেখেই এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হল বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। কল্যাণের ছেড়ে আসা জায়গা এবার কাকলির হাতেই।
আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari : পুলিশের সামনেই লাঠি-ইটের বৃষ্টি! ভাঙল শুভেন্দুর গাড়ি, উত্তপ্ত কোচবিহার!
তবে শুধু মুখ্য সচেতকই নয়, লোকসভায় তৃণমূলের ডেপুটি দলনেতার দায়িত্বও নতুন হাতে। অভিনেত্রী তথা বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় এবার এই পদে আসীন হলেন। লোকসভা নির্বাচনের আগে এই দুই সাংসদের কাঁধেই দলের সাংসদদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং কৌশলগত বিষয় সামাল দেওয়ার গুরুদায়িত্ব। নেতৃত্বের এই পরিবর্তন আদতে দলের ভিতরে আরও শৃঙ্খলা এবং নিয়ন্ত্রণ আনার লক্ষ্যেই কি? সেই প্রশ্নের উত্তর দেবে আগামি সময়।





