নতুন বছরের শুরুতেই বাংলায় ফের রেল দুর্ঘটনা! নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন?

রেল দুর্ঘটনা বাংলায় যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ট্রেনের উপর ভরসা করেই যাতায়াত করেন। তবে ক্রমাগত দুর্ঘটনার কারণে যাত্রীদের মনে ভর করছে আতঙ্ক। কখনও সিগন্যালের ত্রুটি, কখনও ইঞ্জিনের গাফিলতি— এমন একাধিক কারণেই রেলপথে ঘটছে বিপর্যয়। নতুন বছরেও তার ব্যতিক্রম হলো না। ২০২৫ সালের শুরুতেই ফের একবার বাংলার মাটিতে রেল দুর্ঘটনা ঘটল, যা মানুষকে চিন্তিত করে তুলেছে।

আজ, ২৬ জানুয়ারি, প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে, হাওড়ার পদ্মপুকুর স্টেশনের কাছে ঘটে গেল এক বিপত্তি। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে সাঁতরাগাছি-তিরুপতি এক্সপ্রেস কারশেডে ঢোকার সময় হঠাৎই লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এর ফলে পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা দুরন্ত এক্সপ্রেসের পার্সেল ভ্যানে ধাক্কা মারে ট্রেনটি। সংঘর্ষের ফলে দুরন্ত এক্সপ্রেসের কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। তবে সৌভাগ্যক্রমে উভয় ট্রেনেই কোনও যাত্রী না থাকায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

এই দুর্ঘটনার পর পদ্মপুকুর রেল ক্রসিং সংলগ্ন ক্যারি রোড এবং আন্দুল রোডে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়। রেলগেট বন্ধ থাকায় সকাল থেকে এলাকাবাসীদের চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। প্রতিদিন এই রুট দিয়ে হাজার হাজার গাড়ি যাতায়াত করে। দুর্ঘটনার কারণে বিকল্প রুটে গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে পথচলতি মানুষ ও যানবাহন চালকদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

দক্ষিণ-পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ওমপ্রকাশ চরণ জানান, “এটি কোনও চলন্ত ট্রেনের লাইনচ্যুতি নয়। রেল ইয়ার্ডে কারশেডে প্রবেশের সময় এই ঘটনা ঘটেছে। পাশের লাইনে লাইনচ্যুত ট্রেনের কিছু অংশ উঠে গিয়েছিল, যা দ্রুত স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ট্রেন চলাচলে বড় কোনও প্রভাব পড়েনি।” যদিও কোনও প্রাণহানি বা গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবু রেল নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুনঃ ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিম কয়েনে বিনিয়োগকারীদের সর্বনাশ! কয়েক দিনের মধ্যেই কোটি টাকার ক্ষতি!

প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনে এমন দুর্ঘটনা আরও ভয়াবহ হতে পারত যদি ট্রেনগুলো চলন্ত অবস্থায় থাকত বা যাত্রীবাহী হত। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে। তবে এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে রেলের রক্ষণাবেক্ষণে আরও মনোযোগ দেওয়া দরকার। সিগন্যাল সিস্টেম থেকে শুরু করে কর্মীদের আরও সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়া, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই রেলের প্রধান দায়িত্ব, আর তা আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles