চুরির অপর নাম তৃণমূল! চুরি করতে স্ত্রীকে ডিভোর্স দিলেন তৃণমূল নেতা, নাম জড়াল রেশন কেলেঙ্কারিতে

যার সঙ্গে নাকি দিব্য ঘর করছেন সেই স্ত্রীকেই ভুয়ো ডিভোর্স দিলেন তৃণমূল নেতা। আর কারণ কী? উদ্দেশ্য স্ত্রীর নামে রেশন ডিলারশিপ হাতিয়ে নেওয়া। অভিযোগ উঠল তৃণমূলের এক নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নদিয়ার শান্তিপুরের হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র শোরগোল তৈরি হয়েছে জনমানসে।

ইতিমধ্যে শাসকদলের ‘চুরি’ নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। কটাক্ষের সুরে তাঁরা বলছেন যে, ‘কেলেঙ্কারির নতুন অভিধান’! এমনকী অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে নাকি ভয় দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার নাম হল রূপম মান্না। তিনি হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মেথিরডাঙা এলাকার বাসিন্দা। আর তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য পদেও রয়েছেন নাকি তিনি।

এর কয়েকদিন আগে এলাকার রেশন ডিলারশিপ এর জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি বের হয়েছিল। আর সেই বিজ্ঞপ্তি দেখে নাকি সাত-আটজন আবেদন করেন। তৃণমূল নেতা রূপমের স্ত্রী দীপিকা মান্নাও তখন আবেদন করেছিলেন। এবার অভিযোগ যে, স্বামীর সঙ্গে যোগসাজশ করে  আবেদনপত্রে তিনি নিজেকে ডিভোর্সি হিসাবে দেখিয়ে রেশন ডিলারশিপ হাতানোর চেষ্টা করছেন। অথচ সবটাই তো ভুয়ো, স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তাঁরা দিব্য চুটিয়ে সংসার করছেন।

ইতিমধ্যে জানা যাচ্ছে, ওই গ্রামে নাকি ধনঞ্জয় মণি নামে এক ব্যক্তির রেশন দোকান ছিল। তিনি মারা যাওয়ার পর নতুন করে রেশন ডিলারের জন্য খাদ্য দফতরের তরফে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আর সেখানেই এই কারচুপি করেছেন ওই তৃণমূল নেতা। এ ব্যাপারে আবার তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন প্রয়াত রেশন ডিলার এর ছেলে তথা স্থানীয় বাসিন্দা তরুণ মণি।

আরও পড়ুন: বু’লেটের আ’ঘাতে ক্ষ’তবিক্ষত কথা! মৃ’ত্যুর মুখ থেকে কথাকে ফিরিয়ে আনবে এভি? এবার কি তবে ভালোবাসার কথা স্বীকার করবে অগ্নি?

স্থানীয় সূত্রের খবর মিলছে, রেশন ডিলার ধনঞ্জয়ের মৃত্যুর পরে তাঁর স্ত্রী দোকানের দেখভাল করতেন। গত অক্টোবরে ধনঞ্জয়ের স্ত্রী মারা গেলে ছেলেদের মধ্যে বিবাদ বাঁধে। আর এতে হাতছাড়া হয় রেশনের ডিলারশিপ। আর এরপরে নতুন করে আবেদনের বিজ্ঞপ্তি বেরলে ধনঞ্জয় মণির ছেলে তরুণ আবেদন করেন। এরপর সে দেখে তৃণমূল নেতার স্ত্রী নিজেকে ডির্ভোসি দেখিয়ে রেশন ডিলারশিপ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আবার তরুণ মণির এই দাবি অস্বীকার করেছেন দীপিকা ও রূপম। তাঁদের দাবি যে, “তরুণ মণি যা বলছেন সব মিথ্যে”। তৃণমূল নেতা রূপম মান্নার পাল্টা অভিযোগ, “তরুণ মণির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু কী করে তিনি আবেদন করতে পারলেন সে বিষয়ে এবার তদন্ত করা জরুরি।”

RELATED Articles