শুভেন্দু অধিকারী দলত্যাগের মাঝেই এবার তৃণমূল নেতা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী কে দল ত্যাগ করার প্রস্তাব দিয়ে অনুগামীদের পোস্টার পড়ল মন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্র পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটে। আর যা নিয়ে এবার শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে গুঞ্জন।
প্রসঙ্গত তৃণমূলের বিতর্কিত নেতা অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে রাজ্যের গ্রন্থাগারমন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সম্পর্ক সাপে-নেউলে। প্রকাশ্যেই একে অপরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি করেন। কিন্তু তাই বলে দল পরিবর্তন?
ভোটের বাংলায় কিছুই বলা যাচ্ছে না। যে পোস্টার ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে কি লেখা রয়েছে তাতে?
উল্লেখ্য, সোমবার সকালে মঙ্গলকোটের নতুনহাটে কৃষিমান্ডির গেটের পাশে এই পোষ্টার দেখতে পান স্থানীয়রা। তাতে মন্ত্রীর ছবির সঙ্গে রয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর ছবি। লেখা রয়েছে, “আমরা দুই দাদার অনুগামী।অধীর চৌধুরী ও সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকে আমরা এক সঙ্গে দেখতে চাই।” তলায় উল্লেখ রয়েছে মঙ্গলকোট অঞ্চল কংগ্রেস। পোষ্টারের উপর জাতীয় কংগ্রেসের প্রতীক হাতের চিহ্ন। আর এই পোষ্টার প্রকাশ্যে আসতেই দলবদলের বাজারে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। তাহলে কী এবার খোদ গ্রন্থাগারমন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন?
তবে এই সম্ভাবনা ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন খোদ সিদ্দিকুল্লা। তিনি বলেন, “আমি জানি এটা কারা করতে পারে। তবে কারও নাম করতে রাজি নই। এটা আমাকে একটু চমকানোর চেষ্টা। এটা যারা করেছে তারা নিজেদের আখের গোছাতে চায়।” মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী নাম না করলেও তার ঈঙ্গিত কিন্তু নিজের দলের একাংশের দিকেই, রাজনৈতিক মহলের মত অন্তত এমনটাই। অর্থাৎ এই কঠিন সময়েও দলের মধ্যে যে দড়ি টানাটানির লড়াই চলছে তা বোঝাই যাচ্ছে। তাঁর যুক্তি, “মঙ্গলকোটে কংগ্রেস আদৌ শক্তিশালী নয়। সিপিএমের কিছুটা সংগঠন রয়েছে।তবে কংগ্রেস এমন কাঁচা কাজ করবে না।”
প্রসঙ্গত, কাটোয়ার বাসিন্দা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী ছিলেন জমিয়তে উলেমা হিন্দের সক্রিয় একজন কর্মকর্তা। পরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন। বর্তমান শাসকদল তাঁকে ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে মঙ্গলকোটের প্রার্থী করে। জয়লাভের পর মন্ত্রিত্ব পান সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। কিন্তু মঙ্গলকোটে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক রাশ বরাবরই অনুব্রত মণ্ডলের হাতে রয়েছে। অনুব্রত মণ্ডলের অনুগামীদের সঙ্গে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর দ্বন্দ্ব প্রথম থেকেই চলে আসছে। সম্প্রতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে একাধিকবার মুখ খুলেছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সঙ্গে অধীর চৌধুরীর ছবি দেওয়া পোষ্টার পড়ার ঘটনায় দলের একাংশের দিকেই সন্দেহের তির মন্ত্রীরও।





