এনআরএস কান্ডে গতকাল গুরুতর আহত হন এক জুনিয়র ডাক্তার পরিবহ ব্যানর্জি৷ ডোমজুড়ের ষষ্ঠীতলার পরিবহ-র বাড়িতে এই সময় চিন্তার কালো মেঘ৷ আজ দুপুরে চলেছে তাঁর দীর্ঘ অস্ত্রোপচার৷ তবে লড়াই এখনও শেষ হয়নি পরিবহ-র, বাকী রয়েছে আরও৷
গতকাল এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এনআরএস হাসপাতার চত্বর। অভিযোগ চিকিৎসকদের গাফিলতিতেই মৃত্যু হয় বছর ৬৫ এর মহম্মদ সাহিদের৷ এরপরই জুনিয়র ডাক্তারদের লক্ষ্য করে পাথর বৃষ্টি শুরু করেন মৃতের পরিবারের লোকজন৷ সেই পাথরের ঘায়েই গুরুতর ভাবে আহত হন সেসময় এনআরএস এ জুনিয়র ডাক্তার হিসেবে কর্মরত পরিবহ ব্যানার্জি৷
পাথরের ঘায়ে মাথার হার ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাঁর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয় মল্লিকবাজারের নিউরোসাইন্স হাসপাতালে৷ সেখানেই আজ দুপুরে দীর্ঘ অস্ত্রোপচার হয় তাঁর। আপাতত তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানা গিয়েছে৷ তবে লড়াই আরও বাকী রয়েছে। তিন মাস পর আবারও অস্ত্রোপচার করা হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তবে তাতেও দুশ্চিন্তার মেঘ কাটছেনা৷
মোটামুটি মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা পরিবহ তাঁর জীবনে কখনও দ্বিতীয় হননি৷ বাড়ির আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো নয় বলে তিনি তাঁর পড়াশুনা চালাতেন স্কলারশিপের অর্থ দিয়েই। এহেন পরিবার থেকে ডাক্তার হয়ে ওঠা পরিবহর কেরিয়ারই এখন প্রশ্নের সম্মুখীন। মাথায় এই চোটের পর তিনি আর কতোটা চিকিৎসার কাজ করতে পারবেন তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন খোদ চিকিৎসকেরা। পরিবহর স্বপ্নই আজ যেন প্রশ্নের সম্মুখীন। তাই বলা যায় জীবন যুদ্ধে এখনও অনেক লড়াই বাকী তাঁর৷ এই যুদ্ধে তাঁর সাফল্যই আমরা কামনা করি।