আর মাত্র কিছু ঘণ্টার অপেক্ষা। এরপরই সৃষ্টি হতে চলেছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের। আগামী ২২ জানুয়ারি গোটা পৃথিবী সাক্ষী থাকবে রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার। রামলালার জন্য দেশবিদেশ থেকে অযোধ্যায় আসছে নানান উপহার। এর জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ ভাণ্ডার। এবার রামলালাকে বরণ করতে বাংলা থেকে পাঠানো হল ১০১ কেজি সুন্দরবনের মধু।
কে পাঠালেন এই মধু?
দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার অচিন্ত্যনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা হলেন হরিপদ মণ্ডল ও তাঁর ছেলে গোকুল। গোটা মণ্ডল পরিবারই রাম ভক্ত। অযোধ্যার রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার খবরে বেজায় খুশি তারা। সেই কারণে হরিপদবাবু ঠিক করেন রামলালার জন্য অয্যোধ্যায় মধু পাঠাবেন তিনি। যেমন ভাবা, তেমন কাজ।
বাবার এই পরিকল্পনায় খুশি হন তাঁর ছেলেও। জানা গিয়েছে, গত বছরের জুন-জুলাই মাসে থেকে সুন্দরবনের জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে নিজেরা মধু সংগ্রহ করেছেন হরিপদ ও তাঁর ছেলে। সবমিলিয়ে একটু একটু করে জমিয়েছেন ১০১ কেজি মধু।
এই মধু অয্যোধ্যায় পৌঁছনোর জন্য তারা যোগাযোগ করেন মেদিনীপুরের বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষের সঙ্গে। তাঁর সাহায্যেই ছেলে গোকুলকে দিয়ে সেই মধু অয্যোধ্যায় পাঠালেন হরিপদবাবু। রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠায় কাজে লাগানো হবে সুন্দরবনের সেই মধু।
এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তো বটেই অযোধ্যায় রামের প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে বিদেশ থেকেও পুণ্যার্থীরা বিভিন্ন সামগ্রী পাঠাচ্ছেন। আর বাংলা কেন পিছিয়ে থাকবে। তাই মধু পাঠানোর উদ্যোগ”।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার সেই মধু নিয়ে হরিপদবাবু পৌঁছে গিয়েছেন অয্যোধ্যায়। তা শুনে আনন্দে প্রায় কেঁদেই ফেলেন হরিপদবাবু। জানান, তাঁর পাঠানো মধু যদি রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার কাজে লাগে, তাহলে তাঁর জীবন সার্থক। শুধুমাত্র সুন্দরবনের মধুই নয়, ইতিমধ্যেই রামলালার জন্য অয্যোধ্যায় পৌঁছে গিয়েছে কর্ণাটকের চন্দন, বিহারের ঘি ও কেরলের ডাব।





