বিশ্বভারতীর দায়িত্বে থাকা ৪ পুলিশ কর্মীকে ক্লোজ, বদলানো হলো উপাচার্যের দেহরক্ষীকেও

বিশ্বভারতীর দায়িত্বে থাকা ৪ কনস্টেবলকে ক্লোজ করার সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। পুলিশের দাবি ওই চারজন পুলিশকে অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এমনকি বদল করা হয়েছে উপাচার্যের দেহরক্ষীকেও।

আজই বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ কনস্টেবলকে ক্লোজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজ্য প্রশাসন। যার প্রধান কারণ হিসেবে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, তাদের কাজ ছিল ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা রক্ষা করা। কিন্তু তাঁরা সেই কাজ বাদ দিয়ে অন্য কাজের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিলেন। এমনকি পুলিশ জানিয়েছে, উপাচার্য যাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী বলছেন তাঁরা হয়তো ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি উপাচার্যের ওপর পুলিশের তরফে অভিযোগ আনা হয়েছে যে ওই ৪ পুলিশ কর্মীকে কলেজের বাইরে ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন কিছুদিন আগে যখন উপাচার্য এবং আধিকারিকরা একটি মিছিল করেছিলেন সেখানে ওই রাইফেলধারী কনস্টেবলরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এমনকি যেদিন বিশ্বভারতীতে তান্ডব চলল, গেট ভাঙা হলো সেদিনও তাঁরা সেখানেই উপস্থিত ছিলেন। যাদের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে নিরাপত্তা দেওয়া তাঁরা কিভাবে এই ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন! এই বিষয়ে তদন্ত করবে পুলিশ। তাই যতদিন না তদন্ত শেষ হবে ততদিন পর্যন্ত তাঁদের ক্লোজ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন এবং এই ঘটনার খবর নবান্নেও পাঠানো হয়েছে।

গতকাল রাজ্যপালকে বিশ্বভারতীর উপাচার্য জানিয়েছেন যে, তাঁর ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্যাগ করে তিনি লেখেন, এর যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হোক এবং সুরক্ষা দেওয়া হোক। এরপরই প্রশাসনের তরফে ওই চার কনস্টেবলকে ক্লোজ করা হয় এবং উপাচার্যের ব্যক্তিগত দেহরক্ষীকে সরিয়ে অন্য দেহরক্ষী পাঠানো হয়।

সেই দেহরক্ষীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ এনেছে প্রশাসন। যে সেই দেহরক্ষীকে অন্য কাছে ব্যবহার করা হত এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ এক অধ্যাপককে উপাচার্য নিজের দেহরক্ষী হিসেবে ব্যবহার করতেন। এই রকম একাধিক অভিযোগ করা হয়েছে প্রশাসনের তরফে। তবে এই অভিযোগের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তাই পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন ৪ রাইফেলধারী কনস্টেবলকে ক্লোজ করেছে এবং উপাচার্যের একজন দেহরক্ষীকে সরিয়ে অন্য দেহরক্ষী মোতায়েন করেছে। তবে সূত্রের খবর নতুন ব্যক্তিগত দেহরক্ষীকে প্রত্যাখ্যান করেছেন  উপাচার্য।

RELATED Articles

Leave a Comment