নতুন পদ পাওয়ার পরই বিপাকে মনোজ ভার্মা, নতুন পুলিশ কমিশনারের নির্দেশের বিরুদ্ধে মামলা হাইকোর্টে, কী ঘটল আচমকা?

আর জি কর কাণ্ডে জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রতিবাদের জেরে বদল হয় কলকাতা পুলিশ কমিশনার। বিনীত গোয়েলকে  সরিয়ে সেই পদ দেওয়া হয় মনোজ ভার্মাকে। তবে নতুন পদ পাওয়ার পরই এবার বেশ বিপাকে পড়লেন তিনি। তাঁর দেওয়া নির্দেশের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হল মামলা।  

ঠিক কী ঘটেছে?

সামনেই দুর্গাপুজো। এই বছর দুর্গাপুজোতে মানুষের মনে সেই উচ্ছ্বাস বা আনন্দ নেই। কারণ আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের নৃশংস হত্যার ঘটনা। ন্যায় বিচার পাওয়া এখনও বাকি। তবে মায়ের আরাধনা তো বন্ধ করা যায় না। পুজো হবে। অনেক পুজো উদ্যোক্তারাই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে পুজো মণ্ডপে প্রতিবাদী স্লোগান উঠতে পারে। সেই কারণেই এক নির্দেশ দেন পুলিশ কমিশনার।

পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকের পর পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা নির্দেশ দেন যে আগামী ২ মাস কলকাতার একটা বড় অংশে কোনও জমায়েত করা যাবে না। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত কলকাতার এক বড় অংশে চার-পাঁচজনের বেশি দাঁড়িয়ে থাকা বা জমায়েত করা যাবে না।

সেই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আজ, বৃহস্পতিবার দুটি মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। একটি মামলা করা হয়েছে জুনিয়র চিকিৎসকদের তরফে আর অন্যটি করা হয়েছে সিপিএম সংগঠনের তরফে। মামলাকারীদের প্রশ্ন, পুজোর সময় কী মানুষ তাহলে বাড়ি থেকে বেরোবে না? এই মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে আদালত। আগামীকাল, শুক্রবার এই মামলার শুনানি রয়েছে।   

কী নির্দেশ দিয়েছিলেন পুলিশ কমিশনার?

পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মার দাবী, আগামী কয়েক সপ্তাহে কলকাতার একাধিক জায়গায় হিংসাত্মক ঘটনা ঘটতে পারে। সেই কারণে বউবাজার, হেয়ার স্ট্রীট, ধর্মতলার কে সি দাস ক্রসিং থেকে ভিক্টোরিয়া হাউসের দিকের এলাকায় চার-পাঁচজনের বেশি জমায়েত করা যাবে না। এই সময়ের মধ্যে কারোর হাতে লাঠি বা অস্ত্র দেখলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও নির্দেশ দেন পুলিশ কমিশনার। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধেই হাইকোর্টে দায়ের হলে মামলা।

আরও পড়ুনঃ ‘একজন মহিলা চিকিৎসককে ছুরি, পেপার স্প্রে নিয়ে হাসপাতালে যেতে হচ্ছে…’, মেডিক্যাল কলেজে থ্রেট কালচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ হাইকোর্টের

এই প্রসঙ্গে মামলাকারীর আইনজীবী বলেন, “যে এলাকার ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এই বিধি নিষেধ জারি করেছে, সেখানে বেশ কয়েকটি পুজো হয়। আসলে আরজি কর নিয়ে পুজোর সময় যদি আবার মানুষ পথে নামে, তা আটকাতেই এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে”।

আরও অন্যান্য খবর