‘চল রাস্তায় সাজি ট্রামলাইন, ’এইভাবেই গানে, কবিতায়, ছবিতে, সাহিত্যের সাথে জড়িয়ে আছে ট্রাম (Tram service)। কলকাতা (Kolkata) শুনলেই ট্রাম কথাটা সবার আগে মনে পড়ে! অথচ এই ট্রাম পরিষেবাই নাকি বন্ধ করে দেওয়া হবে! কলকাতার রাস্তায় ট্রাম বন্ধের খবরকে কেন্দ্র করে রীতিমত তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। ট্রাম চলাচল যাতে বন্ধ না করা হয় তার জন্য অনেক মানুষ মুখ খুলেছেন। এমনকি ইতিমধ্যে কলকাতার রাস্তায় ট্রাম ফিরিয়ে আনার দাবীতে আদালতে মামলাও ঠুকে দেওয়া হয়েছে, তবে এর মধ্যেই শোনা গেল সুখবর। বন্ধ হচ্ছে না ট্রাম পরিষেবা।
বুধবার সকালেও শ্যামবাজার, ধর্মতলা ও গড়িয়াহাট এসপ্ল্যানেড হয়ে ঘন্টা বাজিয়ে যখন ট্রাম ছুটেছে তখন বিগত কুড়ি বছরের ট্রামে না চাপা মানুষেরও চোখে জল এসেছে এই ভেবে যে কলকাতার রাস্তা থেকে শেষে কিনা মুছে যাবে ঐতিহ্যবাহী ট্রাম? অনেকেই তাই পরিবেশ বান্ধব ট্রাম বাঁচানোর দাবীতে সরব হয়েছেন। ট্রাম বন্ধের কথা শোনার পরে আদালতে যেমন এক অংশের মানুষ মামলা করেছেন তেমনি ট্রামপ্রেমী সংগঠনও ট্রাম ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন। অবশেষে সেই সব ট্রামপ্রেমীদের মুখে ফুটল হাসি। জানা গেল কলকাতার রাস্তাতে বহাল তবিয়তে থাকবে ট্রাম।
উল্লেখ্য, ট্রামের বন্ধের এই পরিণতির জন্য প্রচুর মানুষ যেমন সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন তেমনি অনেকেই আবার আগের বাম সরকারকেও দায়ী করেছিলেন। অভিযোগ ছিল, বাম সরকারের আমলেই পরিবহন দফতরে অপ্রয়োজনীয় লোক ঢুকিয়ে কার্যত সিটুর ইউনিয়ন অফিসে পরিণত করে সিটিসিকে পঙ্গু করে দেয় সিপিএম সরকার। যে কারণে ট্রামের আজ এই দুর্গতি বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে বাম আমলের আগে কংগ্রেস আমলে ট্রামের ভাড়া এক পয়সা বৃদ্ধি হওয়ার জন্য এই শহরে ট্রাম পুড়তে দেখেছিল শহরবাসী। আবার একযুগ পরে এই ট্রাম বন্ধের দাবীতেই পথে নেমে সরব হয় শহরবাসী।
ট্রাম বন্ধ হওয়া আটকাতে বৃহস্পতিবার শ্যামবাজারে জমায়েতের ডাক দেন ট্রামপ্রেমী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বেলা ১২টার দিকে জমায়েত ডাকা হয় সংগঠনের তরফ থেকে আর এই জমায়েতে ট্রামপ্রেমীদের আসতে বলা হয়। অন্যদিকে পরিবহন দফতরের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, ট্রামের ঐতিহ্যের কথা তারাও ভালো মতোই জানে কিন্তু কলকাতা পুলিশ ট্রাম চালানো নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তার কারণ হচ্ছে যানজট ও দুর্ঘটনা। কলকাতাকে যানজট মুক্ত রাখতেই তাই পরিবহন দপ্তর ট্রাম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। একই সাথে বলা হয়েছিল, পশ্চিমের দেশগুলোতে যেখানে ট্রাম চলে সেখানকার আর্থিক কাঠামো, জনঘনত্ব, রাস্তার জন্য বরাদ্দ জমি ইত্যাদির সাথে ঘনবসতিপূর্ণ কলকাতার তুলনায় চলে না।
তবে এইবার জানা যাচ্ছে যে কলকাতার রাস্তা থেকে উঠে যাচ্ছে না ট্রাম। তবে কি সাধারণ মানুষের এই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার বদলালেন নিজের সিদ্ধান্ত? আসলে এই রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী বলেছেন, “সরকার পুরো ট্রাম তুলে দিতে চাইছে না। হেরিটেজ হিসেবে ট্রাম থাকছে। আদালত কী রায় দেয় আমরা সে দিকে তাকিয়ে রয়েছি।” একজন আধিকারিক বলেন, শহরবাসীর ট্রাম নিয়ে আবেগ আছে, কিন্তু সরকারকে বিভিন্ন দিক ভাবনা চিন্তা করেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। ট্রাম লাইনের ফলে দুর্ঘটনা যানজটের কারণে মন খারাপ নিয়েও ট্রামকে সরাতে হবে, হেরিটেজ আকারে ট্রাম থাকবে শুধু এসপ্ল্যানেড থেকে ময়দান পর্যন্ত।





