করোনার ত্রাসে ভীত গোটা দেশ। এই মুহূর্তে নিজেদের জীবন বিপন্ন করে যারা দেশের সেবায় নিজেদের সঁপে দিয়েছে তারা হলো স্বাস্থ্যকর্মী। সংক্রামিত ব্যক্তিদের নিজের হাতে সেবা শুশ্রূষা করে সুস্থ করে তুলছেন তারা। তারা এখন মানুষের কাছে পরিত্রাতা। কিন্তু সোমবার এক অমানবিক মহিলা কনস্টেবলের হাতে নিগৃহীত হলেন এক নার্স। চন্দননগর মহকুমা হাসপাতালে কর্মরতা ওই নার্স রাতের ডিউটিতেই যোগ দিতে আসছিলেন। এমন সময়েই ঘটে এই অমানবিক ঘটনা। অভিযোগ, মাঝরাস্তায় এক লেডি কনস্টেবলের সাথে বাদানুবাদ চলাকালীন ওই মহিলা কনস্টেবল সপাটে নার্সের গালে একটি চড় কষিয়ে দেন।
স্থানীয় একজনের মোবাইলে সেই চড় মারার দৃশ্য ধরা পড়ে। এরপর ওই ভিডিও বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদ্যুৎ বেগে ভাইরাল হয়ে যায়। এই ঘটনা চন্দননগর এলাকায় রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন চন্দননগরের মানুষরা। এক মহৎ কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা মানুষ আইনের রক্ষাকর্তার কাছে ডিউটিতে যাওয়ার সময় চড় খাচ্ছে। এই ঘটনায় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে চারিদিকে।
সোমবার রাত ৮টা নাগাদ সিঙ্গুর থেকে স্কুটি করে হাসপাতালে ডিউটিতে আসছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর হবু স্বামী। হাসপাতালের কিছু দূরেই চন্দননগর থানার পুলিশ তাঁর স্কুটি আটকায় এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তখন ওই তরুণী নিজেকে চন্দননগর মহকুমা হাসপাতালের নার্স বলে পরিচয় দেন এবং তিনি হাসপাতালে নাইট ডিউটিতে যাচ্ছেন বলেও পুলিশকে জানান। তার স্কুটিতে লাগানো স্টিকারও দেখান। এছাড়া এও বলেন, “এতে বিশ্বাস না হলে হাসপাতালে ফোন করে আমার পরিচয় জেনে নিতে পারেন।” কিন্তু ওই মহিলা কনস্টেবল কিছুই শুনতে চাননি।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওই নার্স বলেন, “আপনি যদি ফোনই না করতে চান তাহলে শুধু শুধু রাস্তার মাঝে অপমান করার অর্থ কী?” এরপরই দু’জনের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়ে যায়। এই বচসার জেরেই নিজের ক্ষমতা দেখাতে গিয়ে নার্সের গালে সপাটে চড় কষিয়ে দেন মহিলা কনস্টেবল। এখানেই শেষ নয় তাদের দুজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশ থানায়। এরপর তাদের গ্রেফতারের খবর পাওয়া মাত্র ছুটে আসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।তারপর দু’জনকে ছাড়া হয়।
কিন্তু রাতের অন্ধকারে এহেন নিকৃষ্ট মানের ঘটনা ক্যামেরাবন্দি করেন এক ব্যক্তি। সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করতেই রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। এই ভিডিও না থাকলে হয়তো কনস্টেবলের মিথ্যে অভিযোগে হাজতবাস করতে হত তাদের। এদিকে, ওই নার্স এই ঘটনার পর রীতিমতো মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। এই বিষয়ে চন্দননগর পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীর জানান, তিনি বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। করোনার মধ্যে প্রতিটা এলাকার মানুষ এখন শুধু পুলিশের ওপরেই বিশ্বাস রাখছেন, সেখানে পুলিশের তরফের এহেন আচরণ যেন সব উল্টেপাল্টে দিচ্ছে। বারবার মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে শান্তভাবে সমস্যা মোকাবিলা করতে বলছেন কিন্তু কে শোনে কার কথা? কিছু পুলিশের আজ ঔদ্ধত্য-এর জন্যে চন্দননগরবাসী জানাচ্ছেন যে এই ঘটনার পর তারা করোনা ভাইরাসের থেকে পুলিশের উপরে বেশি ভীত।





