বিবাহিত জীবন মানেই বিশ্বাস আর সহমর্মিতার সম্পর্ক। সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে পথ চলাই তো বিয়ের আসল অর্থ। কিন্তু যখন বিশ্বাস ভেঙে যায়, তখন সম্পর্কের ভিত এতটাই নড়বড়ে হয়ে পড়ে যে, কেউ কেউ হতাশ হয়ে যান, আবার কেউ বেছে নেন প্রতিশোধের পথ! মালদার এক ব্যক্তি যা করলেন, তা শুধু অদ্ভুত নয়, রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন, আর তার বদলে তিনি স্ত্রীকে ‘মৃত’ ঘোষণা করে তাঁর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন করলেন!
স্ত্রী চলে গেলে অনেকেই আইনি ব্যবস্থা নেন, কেউ বা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। কিন্তু অচিন্ত্য রায় যা করলেন, তা যেন বাস্তব গল্পের চেয়েও বেশি নাটকীয়। গ্রামবাসীরা অবাক হয়ে দেখলেন, স্ত্রীর নাম করে শ্রাদ্ধশান্তির আয়োজন করেছেন তিনি। কুশপুতুল বানিয়ে মুখাগ্নি, দাহসৎকার—সব কিছু যেন বাস্তবের এক অদ্ভুত রূপকথা। কিন্তু কেন এত বড় সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি?
অচিন্ত্য রায়, মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের পরাশটলা গ্রামের বাসিন্দা, পেশায় রাজমিস্ত্রি। ১৯ বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। সন্তান না হওয়ায় মন খারাপ থাকলেও দাম্পত্যে বড় কোনো সমস্যা ছিল না বলেই দাবি করেন তিনি। কিন্তু আচমকা একদিন স্ত্রী সমস্ত গয়না, ব্যাঙ্কের টাকা নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যান। শুধু পালিয়ে যাওয়াই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রেমিকের সঙ্গে রিল ভিডিও বানিয়ে স্বামীকে ট্যাগ করতেও ভোলেননি! এমন ঘটনা যেন লজ্জার শেষ সীমায় পৌঁছে দেয় অচিন্ত্যকে।
আরও পড়ুনঃ রামনবমীর আগে ‘দা’ হাতে দিলীপ ঘোষ! হিন্দুত্বের বার্তা নাকি রাজনৈতিক কৌশল?
একদিকে স্ত্রী চলে যাওয়ার যন্ত্রণা, অন্যদিকে সমাজের কটাক্ষ—এই দুইয়ের মাঝখানে পড়ে অচিন্ত্য সিদ্ধান্ত নেন, যেহেতু তাঁর স্ত্রী এখন আর তাঁর জীবনে নেই, তাই তিনি তাঁকে মৃত বলে মেনে নেবেন। আর সেই কারণেই সম্পূর্ণ হিন্দু রীতি মেনে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করেন। শ্মশানে গিয়ে কুশপুতুল দাহ করেন, মাথা মুড়িয়ে আত্মীয়স্বজনদের খাওয়ানোর আয়োজন করেন। গোটা গ্রাম সেই দৃশ্যের সাক্ষী থেকেছে, কেউ হাসছে, কেউ চোখ কপালে তুলছে, কেউ বা বলছে—“এটা যদি সত্যিই হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য কেউ এমন ভুল করতে ভয় পাবে!”
এই ঘটনার পর অচিন্ত্য বলেন, “আমি ওকে ভীষণ ভালোবাসতাম, তাই যা আয় করতাম সব ওর হাতে দিতাম। অথচ সে আমার বিশ্বাস ভেঙে দিল! সমাজের কাছে আর মাথা নিচু করতে পারছিলাম না, তাই এই সিদ্ধান্ত নিলাম।” গ্রামবাসীরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন—কেউ বলছেন, এটা বাড়াবাড়ি, কেউ বা বলছেন, এই কাণ্ড অন্তত সমাজে একটা বার্তা দেবে। তবে একটাই সত্য, এই ঘটনা মালদার বুকে ইতিহাস হয়ে রইল!





