ফের র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠল বাংলায়। এবার অভিযোগ এল রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ থেকে। ওই কলেজের এক ছাত্রীকে লাহাতার র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠল দুই সিনিয়র ছাত্রের বিরুদ্ধে। গতকাল, সোমবার ওই ছাত্রী নিজের কিছু সহপাঠীদের নিয়ে রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীর কাছে অভিযোগ জানান।
কী অভিযোগ করেছেন ওই ছাত্রী?
ওই ছাত্রী রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তাঁর অভিযোগ তাঁকে এক নাগাড়ে আপত্তিকর ভাষায় কটাক্ষ করে কলেজের তৃতীয় বর্ষ ও ফাইনাল বর্ষের তিন পড়ুয়া। জানা গিয়েছে, ওই পড়ুয়ারা বিগত কয়েকদিন ধরেই ওই মেডিক্যাল কলেজের আবদুলঘাটা অ্যাকাডেমি ব্লকের হোস্টেলের জুনিয়র পড়ুয়াদের ইন্ট্রো পর্বের নামে মানসিক অত্যাচার করছে। এমনকি, দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্রীকে মারধরও করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
ওই ছাত্রীর অভিযোগ, “আমরা একদিন পার্টি করছিলাম। তা নিয়ে সিনিয়ররা আপত্তি করে। আমরা সরিও বলি। জানাই এমন আর হবে না। এরপরও আমাদের ডেকে পাঠানো হয়। নোংরা ভাষায় কথা বলে। মানসিক হেনস্থা করা হয়। তাও মেনে নিতাম। এরপর তৃতীয় বর্ষের এক দাদা আমাকে ঘুষি মারে। আমি সংজ্ঞা হারাই। এরপর ওরাই আমাকে জল দেয়। আমি উঠে বসতেই বলে হাঁটু গেড়ে বসতে”। এরপর তারা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান।
ওই ছাত্রী জানান, তারা অভিযোগ জানানোর সময় তৃতীয় বর্ষের একদল পড়ুয়া নাকি জুনিয়র পড়ুয়াদের হুমকি দিয়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে জুনিয়র পড়ুয়ারা। সেই কারণে তারা স্থানীয় বিধায়কের দ্বারস্থ হয়ে তাঁকে এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যানী বলেন, “মেডিক্যালের দ্বিতীয় বর্ষের কয়েকজন পড়ুয়া আমার কাছে র্যাগিংয়ের অভিযোগ করেন। নিরাপত্তার দাবী জানান। বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানিয়েছি। যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পুলিশ সুপারের কাছে অনুরোধ করেছি”।
মঙ্গলবার সকালে এই ঘটনা প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিদ্যুৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে আজ অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির সঙ্গে মিটিং হবে। ফ্যাক্ট ফান্ডিং করা হবে। তারপর সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।





