আর পাঁচটা দিনের মতো বৃহস্পতিবারও কাজে বেরিয়েছিল মেয়েটি। রাত বেড়ে যায়, মেয়ে আর ঘরে ফেরে না। ক্রমেই দুশ্চিন্তা গ্রাস করছিল পরিবারকে। আর সকাল হতেই সেই দুশ্চিন্তা বাস্তবে পরিণত হল। শুক্রবার সকালে পাশের গ্রামের খড়ের গাদা থেকে উদ্ধার হল যুবতীর মৃতদেহ।
সকালবেলা মেয়ের এমন পরিণতি দেখে আঁতকে উঠলেন তাঁর মা। জ্ঞান হারান তিনি। পরিবার ও গ্রামবাসীদের প্রাথমিক অনুমান যুবতীকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ দক্ষিণ কৃষ্ণপুর গ্রামে। যুবতীর মৃতদেহ উদ্ধার নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। পুলিশ তদন্ত করছে এই ঘটনার।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ওই যুবতীর বাড়ি কালিয়াগঞ্জের বোঁচাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব শংকরপুর গ্রামে। বছর তিনেক আগে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়। এরপরই দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডির শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে দুই সন্তানকে নিয়ে বাপেরবাড়ি চলে আসেন ওই যুবতী। স্থানীয় হলদিপুর প্লাইউড কারখানায় কাজ করতেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্যান্য দিনের মতোই গতকাল, বৃহস্পতিবারও সাইকেল নিয়ে কারখানায় কাজ করতে গিয়েছিলেন ওই যুবতী। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়ি ফেরেননি তিনি। রাতভর বাড়ির লোকজন খোঁজাখুঁজি করেও কোনও সন্ধান পাননি। এরপর শুক্রবার সকালে পাশের গ্রামের মাঠে খড়ের গাদার মধ্যে উদ্ধার হয় বছর ছাব্বিশের যুবতীর মৃতদেহ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুমান, যুবতীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কে বা কারা জড়িত, তা এখনও জানা যায়নি। গুঞ্জন উঠতে থাকে যে যুবতী নাকি আত্মহত্যা করেছেন। এই শুনে যুবতীর বন্ন দাবনি করেন যে তাঁর দিদি কোনও ভাবেই আত্মহত্যা করতে পারে না।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কালিয়াগঞ্জের ব্লক তৃণমূল সভাপতি নিতাই বৈশ্য। তাঁর অনুমান, যুবতীকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। তবে এর থেকে বেশি কিছু বলতে চান নি তিনি। এই ঘটনায় রায়গঞ্জের পুলিশ সুপার সানা আখতার বলেন, “মৃতদেহের পাশ থেকে সাইকেল, পেস্টিসাইড এসব পাওয়া গিয়েছে। আমরা বিস্তারিত তদন্ত করে দেখছি”।





