২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের জন্য জোট বেঁধেছে বাম-কংগ্রেস। কিন্তু ইতিমধ্যেই ঘরোয়া কোন্দল বাঁধিয়ে বসে আছে কংগ্রেস। যা যত দিন বাড়ছে ততোই ভয়ঙ্কর আকার নিচ্ছে। এই দেখেই রীতিমতো তিতিবিরক্ত দলের বর্ষীয়ান নেতা আব্দুল মান্নান। তিনি এবার ঠিক করে ফেলেছেন যে, এবার তিনি ভোটে দাঁড়াবেনই না। বর্ষীয়ান নেতার এই সিদ্ধান্তে মহা বিপদে পড়েছে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু আব্দুল মান্নান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে ভোটের সময় আলাদা আলাদাভাবে লড়া চলবে না। বামেদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবেই ভোটে লড়তে হবে কংগ্রেসকে।
কিন্তু হঠাৎ বামেদের সঙ্গে জোট বেঁধেও আজ এই চিন্তা কেন আসছে মাস্টারমশাইয়ের মনে?
কংগ্রেসের একটা গোষ্ঠী এবার একক লড়াই করে দেখতে চাইছে। আর এই সিদ্ধান্তকে কিছুতেই মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না আব্দুল মান্নান কারণ তার মতে এই সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের পক্ষে আত্মঘাতী।মাস্টারমশাই হিসাবে সুপরিচিত আব্দুল মান্নান আজীবন কংগ্রেসি। দলবদলের এই জমানাতে তিনি কিন্তু কোনদিনও আজ পর্যন্ত দলবদল করেননি। সংসদীয় রাজনীতিতে নখদর্পণে কিন্তু আজ এখন তিনি অভিযোগ জানিয়েছেন যে তার কথাই দলে শোনা হচ্ছে না।
তাহলে কি ভদ্রেশ্বরের চাঁপদানির বিধায়ক তাহলে এবার রাজনীতিই ছেড়ে দেবেন? তিনি তো অভিমানে বলেই ফেলেছেন, “আর কতদিন! হল তো অনেক। এবার থামার সময়।”
প্রদেশ সভাপতি থাকাকালীন প্রয়াত হন সোমেন মিত্র।পরবর্তীকালে কে সভাপতি হবে সেই নিয়ে কংগ্রেসের ভেতরে ঝামেলা শুরু হয় তখন কিন্তু তা মেটাতে আসরে নামেন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান। তিনিই অধীর চৌধুরীকে সভাপতি চেয়ে হাইকম্যান্ডকে চিঠি লেখেন। আর তারপরই প্রদেশ সভাপতি হিসেবে অধীরের নাম ঘোষণা করে দিল্লি। কিন্তু এখন কান পাতলেই শোনা যায় অধীরের সঙ্গে তাঁর মুখ দেখাদেখি বন্ধ।
তাই অভিমানেই ভোটে আর দাঁড়াবেন না বলে ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়ে রেখেছেন।এখনো হাইকমান্ডকে তিনি এই কথা জানাননি ঠিকই তবে সিদ্ধান্ত যে তিনি সহজে বদলাতে চলছেন না তা তাঁর কথা থেকেই স্পষ্ট।





