লোকসভা ভোট এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রীদেরই আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়ছে। এবার প্রচার সভায় গিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মতোই দাবী করতে শোনা গেল তমলুকের বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে (Abhijit Ganguly)। মমতা সরকার ভেঙে পড়ার ডেডলাইন দিয়ে দিলেন তিনি।
বিচারব্যবস্থা থেকে ইস্তফা দিয়ে রাজনীতির ময়দানে পা রেখেছেন প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Ganguly)। বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। উপহারস্বরূপ, প্রাক্তন বিচারপতিকে তমলুক থেকে প্রার্থী করে গেরুয়া শিবির। ওই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের হয়ে লড়ছেন যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। আর অন্যদিকে রয়েছেন সিপিএম প্রার্থী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। ত্রিমুখী এই লড়াইয়ে কে এগিয়ে থাকেন এখন সেটাই দেখার।
নানান প্রচার সভাতে গিয়েই বেশ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতেই দেখা গিয়েছে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে (Abhijit Ganguly)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলের নানান নেতারা তাঁর বাক্যবাণের মুখে পড়েছেন। এবার এক প্রচারে গিয়ে সরকার ভেঙে যাওয়ার কথা বললেন তিনি।
গতকাল, মঙ্গলবার ময়নার এক প্রচার সভা থেকে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Ganguly) বলেন, “বিজেপি প্রার্থীদের জয়ী করুন। তাহলে এই তৃণমূল কংগ্রেস, যা এখন ভিতর থেকে ভেঙে গিয়েছে, তারা নিজেরাই ভেঙে পড়ে যাবে। ডিসেম্বর মাস পর্যন্তও আমি তাদের মেয়াদ দেখছি না। এই বছরই ভেঙে যাবে”।
এই ডিসেম্বর ডেডলাইন যদি মিসও হয়, তাহলে পরের সম্ভাব্য ডেডলাইনও জানিয়ে দেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Ganguly)। তাঁর কথায়, “এই বছরই ভেঙে যাবে। যদি তা না মেলে দেড় বছর পর ২০২৬ সাল তো আছেই। এদের গুড়িয়ে দিতে হবে। এই দুর্বৃত্তদের আর একদিনও ক্ষমতায় রাখা যাবে না। এরা পশ্চিমবঙ্গকে শেষ করেছে”।
অভিজিৎবাবু (Abhijit Ganguly) যখন এহেন দাবী করছিলেন, সেই সময় ওই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও। যদিও এদিন মৌন থাকতেই দেখা গেল তাঁকে। এর আগে শুভেন্দুর গলাতেই শোনা গিয়েছিল এই ডিসেম্বর ডেডলাইনের তত্ত্ব। ২০২২ সালে তিনি ডিসেম্বরের ১২, ১৪ ও ২১ তারিখের উপর জোর দিয়েছিলেন। যদিও পরে এই তারিখের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ওই তিনটি দিন রাজ্য রাজনীতি ও সরকারি প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন।
এবার সেই একই ডিসেম্বর ডেডলাইন তত্ত্ব শোনা গেল রাজনীতিতে নতুন মুখ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Abhijit Ganguly) মুখেও। তিনি যদিও আগের থেকেই ডেডলাইন মিস হওয়ার সম্ভাবনা ভেবে বিকল্প অপশনও দিয়েছেন। তাঁর এই ডেডলাইন কতটা কার্যকরী হয়, এখন সেটাই দেখার।





