লোকসভা ভোট এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে একদিকে যখন নানান রাজনৈতিক দলের নেতারা একে অপরকে তুলোধোনা করছেন, শানাতে ধমকাতে কোনওভাবেই এক ইঞ্চি জমি ছাড়ছেন না, সেই সময় দাঁড়িয়ে ঘটল এক বিপরীত ঘটনা। ভোটের আগে হঠাৎ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের প্রশংসা শোনা গেল তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) মুখে। হঠাৎ কেন এমন উল্টো মনোভাব?
কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) কথায়, দিলীপ ঘোষের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক লড়াই রয়েছে ঠিকই তবে বিজেপি নেতা হিসেবে দিলীপ ঘোষের গুরুত্ব তিনি অস্বীকার করতে পারেন না। বিজেপিতে দিলীপ ঘোষের ভূমিকা যে অনেকখানি, কায়মনোবাক্যে মেনে নিয়েছেন তৃণমূল নেতা। তপন সিকদারের পর যে দিলীপ ঘোষই বঙ্গি বিজেপির সেরা সভাপতি, এও জানিয়েছেন কুণাল।
কুণালের (Kunal Ghosh) কথায়, “তপন সিকদারের পর নিঃসন্দেহে দিলীপই ঘোষই বঙ্গ বিজেপির সেরা সভাপতি। রাজনীতিতে দিলীপ ঘোষকে হারাতে চাই, কিন্তু রাজনীতিবিদ দিলীপ ঘোষ তাঁর মতোই বর্ণময় থাকুন”।
দিলীপ ঘোষকে এমন দরাজ সার্টিফিকেট দিলেও হালকা খোঁচা কিন্তু দিয়েই দিয়েছেন তৃণমূল নেতা। কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) দাবী, “দিলীপবাবুর লড়াই তৃণমূলের সঙ্গে নয়, দিলীপবাবুকে লড়তে হচ্ছে ওঁর দলের, ওঁর বিরোধীদের বিরুদ্ধে”।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সাল বঙ্গ বিজেপির সভাপতির দায়িত্ব পান দিলীপ ঘোষ। ২০২১ সাল পর্যন্ত এই পদে বহাল তবিয়তে ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আজ রাজ্যে বিজেপি যে স্থানে রয়েছে, যেভাবে সাংগঠনিকভাবে শক্তপোক্ত হয়েছে, এর ভিত কিন্তু গড়েছিলেন দিলীপ ঘোষই। বঙ্গ বিজেপির সভাপতি থাকাকালীন তিনি যেভাবে সামনে থেকে বিজেপির সংগঠনকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা অনস্বীকার্য।
বাংলায় বিজেপির উত্থানের নেপথ্যে যে দিলীপ ঘোষের গুরুত্ব সিংহভাগ, তা একবাক্যে স্বীকার করেছেন বঙ্গ বিজেপির বর্তমান সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও। তাঁর কথায়, “আমরা সবাই এটা স্বীকার করি, কেউ এটা অস্বীকার করি না। আমি যখন রাজনীতিতে এসেছি, তখন আমি দিলীপ ঘোষের লড়াই দেখে এসেছি। তিনি যে লড়াই করেছেন, তাতে কারও কোনও সন্দেহ নেই। দলও সেটা মানে”।





