বাংলায় ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই একের পর এক রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর রাজ্যের একাধিক প্রান্ত থেকে উঠে এসেছে মৃত্যুর খবর। সেই সময়েই নজর কেড়েছিল কাঁকুড়গাছিতে বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা। ওই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার পড়ে সিবিআইয়ের হাতে। তবে এতদিন পর সেই মামলায় নতুন করে উত্তাপ ছড়াল বিজেপি কর্মীর দাদার বিস্ফোরক বয়ানে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই চার্জশিট জমা দিয়েছে শিয়ালদহ আদালতের এসিজেএমের কাছে। চার্জশিটে নাম রয়েছে নারকেলডাঙা থানার তৎকালীন ওসি শুভজিৎ সেন, সাব-ইন্সপেক্টর রত্না সরকার এবং এক হোমগার্ডের। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিজেপি কর্মীর দাদা বিশ্বজিৎ সরকারের বয়ান অনুসারে, এই তিনজন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করতে অভিযুক্তদের সাহায্য করেছিলেন। এমনকী ঘটনাস্থলে থাকা রক্ত নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ধুইয়ে দিয়েছিলেন ওসি শুভজিৎ সেন—এমনটাই অভিযোগ বিশ্বজিতের।
শুধু পুলিশ নয়, চার্জশিটে নাম উঠে এসেছে শাসক দলের নেতাদেরও। বেলেঘাটা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল, কাউন্সিলর স্বপন সমাদ্দার ও পাপিয়া ঘোষ—এই তিনজনের বিরুদ্ধেও চার্জশিট জমা দিয়েছে সিবিআই। মোট ১৮ জনের নাম রয়েছে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে। এর মধ্যে ১৫ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে, এখনও ৫ জন পলাতক বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
বিশ্বজিৎ সিবিআই-কে জানান, ২০২১ সালের ২ মে তাঁর ভাইকে পিটিয়ে মারার পর ঘটনাস্থল ঘিরে কোনও প্রমাণ সংরক্ষণ করেননি পুলিশ আধিকারিকেরা। বরং, ওসি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে প্রমাণ লোপাটে সহযোগিতা করেছেন। তাঁর আরও দাবি, সাব-ইন্সপেক্টর রত্না সরকার তাঁর মা-কে দিয়ে সাদা কাগজে সই করিয়ে নেন। সেই বয়ানকেই ‘প্রাইম এভিডেন্স’ হিসেবে ব্যবহার করেছে সিবিআই। উল্লেখ্য, ঠিক যেমন ভাবে আরজি কর হাসপাতালে তথ্যপ্রমাণ লোপাটে অভিযুক্ত হয়ে টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে সিবিআই গ্রেফতার করেছিল, তেমনই অভিযোগ উঠেছে নারকেলডাঙার পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও।
আরও পড়ুনঃ অপমানে কেঁদে ফেললেন অধ্যক্ষ! তৃণমূল কর্মীর হাতে মার খেয়ে বললেন— “চাকরি ছেড়ে দেব”
এই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত অরুণ দে সম্প্রতি ধরা পড়েছেন সিবিআইয়ের হাতে। চার বছর ধরে পলাতক ছিলেন তিনি। ২০২১ সালের ২৫ অগস্ট এই মামলার তদন্তভার হাতে পেয়েছিল সিবিআই। শুরুতে এফআইআর-এ মোট ২০ জনের নাম ছিল। এর মধ্যে ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন সিবিআই-এর নজর বাকি পাঁচ পলাতকের উপর। তবে মৃত বিজেপি কর্মীর দাদার বয়ানকে ঘিরে তদন্ত যে নতুন মোড়ে পৌঁছেছে, তা বলাই যায়।





