পৃথিবীর কোন কিছুর গন্ডিতেই শিল্পী কে বাঁধা যায় না। তাঁরা তো সব কিছুর উর্ধ্বে। তাঁরা মানেনা কাঁটাতার। জানেনা কূটনৈতিক কচকচানি। শিল্পী তো শিল্পীই। তাঁর সমস্ত পক্ষপাত, ডান-বাম, লাল-সবুজ-গেরুয়া সবই তো শিল্পে মেলে। নিজের জীবদ্দশায় কখনও যোগ দেননি কোনও রাজনৈতিক দলে। কাকে সমর্থন করতেন তাও জানা নেই কিন্তু জীবনকাল পেরিয়ে বিজেপি-তৃণমূল তরজায় জড়িয়ে পড়লেন সুশান্ত সিং রাজপুত।
গত রবিবার নিজের বাড়িতে আত্মঘাতী হয়েছেন সুশান্ত। আর আজ অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে নিজেদের অজান্তে রাজনীতির লড়াইয়ে নেমে পড়লেন দুই শিবিরের দুই দুঁদে নেতা। তাঁর মধ্যে একজন আবার স্বনামধন্য শিল্পী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, বাবুল সুপ্রিয়। সুশান্তের প্রতি শোকজ্ঞাপনে তৃণমূলের লোগো ব্যবহার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো। ফেসবুকে তাঁর এই পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়।
সুশান্ত অভিনয় জগতের বাইরেও এতটাই জনপ্রিয় ছিলেন যে বিভিন্ন মহল থেকেই শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে তাঁকে। তৃণমূলের যুব নেতা তথা সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে সুশান্তের ছবি দিয়ে শোকজ্ঞাপন করেছেন। ছবির উপরে রয়েছে তৃণমূলের লোগো, নিচে অভিষেকের নিজের ছবি। আর বিতর্ক বেঁধেছে সেখানেই।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূল যুব সভাপতির এই পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বাবুল নিজের ফেসবুক পোস্টে বাংলায় লিখেছেন, ”এটা কি করলে অভিষেক!! সুশান্তকে শেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি জানালে, খুব ভালো কথা, কিন্তু তাতে তৃণমূলের লোগো কেন?? তোমার নিজের ছবিই বা কেন?” কোনও শিল্পীর সঙ্গে রাজনীতিকে এভাবে জুড়ে দেওয়া যে অপ্রত্যাশিত, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত লেখাও লিখে পোস্ট করেছেন বাবুল।
মাঝেমাঝেই আলোচনার শিরোনামে আসেন দুই শিবিরের এই দুই রক্ষক। অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু যেন না চাইতেই সেই লড়াই ফের উসকে দিল। তবে এবার হয়তো শিল্পী হিসেবে বাবুল অভিষেকের থেকে অনেকটাই এগিয়ে গেলেন।





